সঠিক উত্তর: (খ) সেন্ট মার্টিনস
বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দ্বীপসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন দ্বীপের মধ্যে সেন্ট মার্টিনস দ্বীপটি তার অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
**সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **ভৌগোলিক অবস্থান**: সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার অন্তর্গত। দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার।
— **প্রবাল দ্বীপ হিসেবে পরিচিতি**: সেন্ট মার্টিনস দ্বীপকে বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে প্রচুর পরিমাণে প্রবাল পাথর ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রয়েছে, যা দ্বীপটিকে অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে।
— **জীববৈচিত্র্য**: দ্বীপটিতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রবাল, সামুদ্রিক শৈবাল, সামুদ্রিক কচ্ছপ, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং সামুদ্রিক পাখির আবাসস্থল। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের কেন্দ্র।
— **জনবসতি ও পর্যটন**: দ্বীপটিতে প্রায় ৭ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশের কারণে দ্বীপটি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পর্যটকরা এখানে প্রবাল দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন।
— **প্রশাসনিক অবস্থা**: দ্বীপটি বাংলাদেশের টেকনাফ উপজেলার অধীনস্থ হলেও এর প্রশাসনিক ব্যবস্থা কিছুটা আলাদা। দ্বীপটিতে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতিও রয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) নিঝুমদ্বীপ: নিঝুমদ্বীপ বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। এটি মূলত একটি বন্যাপ্রবণ দ্বীপ এবং এটি হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত। এটি প্রবাল দ্বীপ নয়।
✗ গ) হাতিয়া: হাতিয়া বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ। এটি নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত এবং এটি মূলত একটি নদীঘেরা দ্বীপ। এটি প্রবাল দ্বীপ নয়।
✗ ঘ) কুতুবদিয়া: কুতুবদিয়া দ্বীপ কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত। এটি মূলত একটি বন্যাপ্রবণ দ্বীপ এবং এটি প্রবাল দ্বীপ নয়। এটি পরিচিতি লাভ করেছে তার সামুদ্রিক লবণ উৎপাদনের জন্য।
উৎস:
— বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (www.bangladesh.gov.bd)
— বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (www.parjatan.gov.bd)
— ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক