ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ফরিদপুর
বাংলাদেশের পাট উৎপাদনের প্রধান জেলা সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই দেশের পাট চাষের ইতিহাস ও ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করতে হবে।
**ফরিদপুর জেলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ফরিদপুর বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের একটি জেলা, যা পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। জেলাটি পাট চাষের জন্য প্রসিদ্ধ।
— বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (২০২২-২৩), ফরিদপুর জেলা দেশের সর্বোচ্চ পাট উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে স্বীকৃত।
— ফরিদপুরের মাটি পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, কারণ এখানকার মাটিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব পদার্থ ও উপযুক্ত জলবায়ু রয়েছে।
— জেলাটিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পাট চাষের প্রচুর প্রসার ঘটেছে, যার ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
— ফরিদপুরের পাট দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় উচ্চমানের বলে বিবেচিত হয়।
**পাট উৎপাদনে অন্যান্য জেলার অবস্থান:**
— রংপুর জেলা উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপ্রধান জেলা, যেখানে ধান ও গম উৎপাদনের পাশাপাশি পাট চাষও হয়। তবে উৎপাদনের পরিমাণ ফরিদপুরের তুলনায় কম।
— ময়মনসিংহ জেলা মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এবং এখানেও পাট চাষ হয়, কিন্তু উৎপাদনের পরিমাণ ফরিদপুরের কাছাকাছি নয়।
— টাঙ্গাইল জেলা মধ্যাঞ্চলের আরেকটি জেলা, যেখানে পাট চাষ হয়, তবে উৎপাদনের পরিমাণ ফরিদপুরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) রংপুর: রংপুর জেলা পাট উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ হলেও ফরিদপুরের তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ কম।
✗ খ) ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ জেলা পাট উৎপাদনে অগ্রগামী হলেও ফরিদপুরের তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ কম।
✗ গ) টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল জেলা পাট উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য হলেও ফরিদপুরের তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ কম।
উৎস:
— বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS), ২০২২-২৩ সালের কৃষি পরিসংখ্যান প্রতিবেদন।
— বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI) এর বার্ষিক প্রতিবেদন।
— বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC) এর তথ্য।