ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল খরা প্রবণতার দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়।
**খরা প্রবণ অঞ্চল হিসেবে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের পরিচিতি:**
— বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল মূলত রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নিয়ে গঠিত।
— এই অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হলো এটি মূলত বরেন্দ্রভূমি নামে পরিচিত একটি উচ্চভূমি এলাকা, যেখানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর তুলনামূলকভাবে নিচু।
— এই অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নেমে যাচ্ছে, যার ফলে খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
— বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এই অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম, যা খরার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
— বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে (নভেম্বর থেকে মার্চ) এই অঞ্চলে খরার তীব্রতা বেশি দেখা যায়।
**বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের খরা প্রবণতা সম্পর্কে:**
— উত্তর-পূর্ব অঞ্চল (সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ইত্যাদি): এই অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় বলে খরা প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম।
— দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল (খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর ইত্যাদি): এই অঞ্চলে নদী ও খালের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ভালো থাকায় খরা প্রবণতা কম।
— দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ইত্যাদি): এই অঞ্চলে ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে খরা প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম হলেও কিছু এলাকায় সাময়িক খরা দেখা যায়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) উত্তর-পূর্ব অঞ্চল: এই অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় খরা প্রবণতা কম।
✗ গ) দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল: এই অঞ্চলে নদী ও খালের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ভালো থাকায় খরা প্রবণতা কম।
✗ ঘ) দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল: এই অঞ্চলে ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে খরা প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম।
উৎস:
— বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), খরা প্রবণ অঞ্চল সম্পর্কিত গবেষণা প্রতিবেদন।
— বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, বার্ষিক জলবায়ু প্রতিবেদন।
— ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন একাডেমিক বই।