ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) বরেন্দ্র অঞ্চল
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত বরেন্দ্র অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। বিশেষ করে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার (FCDI - Flood Control, Drainage, and Irrigation) কারণে এ অঞ্চলের ভূমি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
**বরেন্দ্র অঞ্চল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **ভৌগোলিক অবস্থান**: বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এটি মূলত একটি উচ্চভূমি অঞ্চল, যেখানে ভূমির উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০-৩০ মিটার পর্যন্ত।
— **প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য**: বরেন্দ্র অঞ্চলটি মূলত লালমাটির জন্য বিখ্যাত। এ অঞ্চলের মাটি লালচে বর্ণের এবং এটি তুলনামূলকভাবে অনুর্বর। এছাড়া এখানে প্রচুর পরিমাণে ভূগর্ভস্থ পানি রয়েছে, যা অতীতে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হতো।
— **ঐতিহাসিক পানি ব্যবস্থাপনা**: ব্রিটিশ শাসনামলে এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। বিশেষ করে, ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তান সরকারের উদ্যোগে এ অঞ্চলে ব্যারেজ ও খাল খনন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
— **তিস্তা ব্যারেজ** (১৯৯০-এর দশকে সম্পন্ন)
— **পাবনা ব্যারেজ** (১৯৬০-এর দশকে নির্মিত)
— বিভিন্ন খাল ও সেচ প্রকল্প।
— **পরিবেশগত ক্ষতি**: FCDI প্রকল্পের কারণে এ অঞ্চলের ভূমি ও পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
— **ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া**: অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে।
— **মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি**: অতিরিক্ত সেচের কারণে মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কৃষি উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
— **জলাভূমি ধ্বংস**: প্রাকৃতিক জলাভূমি ও খালগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জীববৈচিত্র্য হ্রাস পেয়েছে।
— **ভূমিক্ষয়**: অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের কারণে ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কৃষিজমির উর্বরতা কমিয়ে দিয়েছে।
— **কৃষি ও জীবিকা**: বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি। তবে পরিবেশগত ক্ষতির কারণে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **খ) মধুপুর গড় অঞ্চল**:
— মধুপুর গড় অঞ্চলটি বাংলাদেশের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি মূলত একটি উচ্চভূমি অঞ্চল। এ অঞ্চলের প্রধান সমস্যা হলো ভূমিক্ষয় ও ভূমিধস। তবে এখানে FCDI প্রকল্পের কারণে উল্লেখযোগ্য পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি।