ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) সিলেট
বাংলাদেশের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সুফিবাদের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলকে সুফি সাধকদের পদচারণায় সমৃদ্ধ হওয়ায় "৩৬০ আউলিয়ার দেশ" হিসেবে অভিহিত করা হয়।
**সিলেট অঞ্চল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সিলেট অঞ্চল বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এখানে রয়েছে প্রচুর চা বাগান, পাহাড়, নদী ও হাওর।
— ইসলাম ধর্ম প্রচারের ক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে সুফি সাধকদের অবদান অনস্বীকার্য।
— সিলেটকে "৩৬০ আউলিয়ার দেশ" বলা হয় কারণ এখানে অসংখ্য সুফি সাধক বা আউলিয়া ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য এসেছিলেন এবং তাঁদের মাজার বা দরগাহ এখনও বিদ্যমান।
— সিলেটের উল্লেখযোগ্য সুফি সাধকদের মধ্যে রয়েছেন হযরত শাহজালাল (রহ.), হযরত শাহপরান (রহ.), হযরত গিয়াস উদ্দিন আহমদ (রহ.) প্রমুখ। এঁদের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্ম এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
— সিলেট অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে এটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) রাজশাহী: রাজশাহী অঞ্চলও ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে, তবে এটি সুফি সাধকদের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নয়। এখানে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের প্রভাব বেশি।
✗ খ) ঢাকা: ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী এবং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি সুফি সাধকদের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নয়। এখানে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের প্রভাব বেশি।
✗ গ) চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামও ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে, তবে এটি সুফি সাধকদের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নয়। এখানে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের প্রভাব বেশি।
উৎস:
— ইসলাম প্রচারে সিলেট অঞ্চলের ভূমিকা সম্পর্কিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ ও প্রবন্ধ।
— বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল।
— বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রকাশনা থেকে প্রাপ্ত তথ্য।