ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) কুমিল্লা
**ভূমিকা:**
বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়কালের ভূমিরূপ ও শিলাস্তরের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে **প্লায়িস্টোসিন কাল** (Pleistocene Epoch) হলো ভূতাত্ত্বিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়, যা প্রায় **২৬ লক্ষ বছর পূর্ব থেকে ১১,৭০০ বছর পূর্ব পর্যন্ত** বিস্তৃত ছিল। এই সময়কালে গঠিত ভূমিরূপ বা শিলাস্তরকে **প্লায়িস্টোসিন সোপান** বলা হয়। বাংলাদেশে এই ধরনের ভূতাত্ত্বিক গঠন প্রধানত **কুমিল্লা অঞ্চলে** দেখা যায়।
---
**প্লায়িস্টোসিন কাল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **সময়কাল:** প্লায়িস্টোসিন কাল হলো **চতুর্দশ যুগের** (Quaternary Period) একটি উপযুগ, যা **২৬ লক্ষ বছর পূর্ব থেকে ১১,৭০০ বছর পূর্ব** পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এটি **হিমযুগের** (Ice Age) সময়কাল হিসেবে পরিচিত।
— **ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য:**
— এই সময়কালে পৃথিবীর অনেক অঞ্চলে **হিমবাহের** প্রভাব ছিল, যার ফলে নদী-খাত, হ্রদ ও সমভূমির গঠন ঘটে।
— বাংলাদেশে প্লায়িস্টোসিন যুগের শিলাস্তর প্রধানত **পলিমাটি, বেলেপাথর ও কর্দমশিলা** দ্বারা গঠিত।
— **বাংলাদেশে অবস্থান:**
— বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র অনুযায়ী, **কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় অঞ্চলে** প্লায়িস্টোসিন যুগের শিলাস্তর দেখা যায়।
— এছাড়া **টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলেও** এই যুগের কিছু ভূতাত্ত্বিক গঠন রয়েছে, তবে কুমিল্লা অঞ্চলই সর্বাধিক পরিচিত।
— **গঠনের কারণ:**
— প্লায়িস্টোসিন যুগে **হিমবাহের গলিত পানি ও নদীবাহিত পলির** মাধ্যমে এই অঞ্চলের ভূমিরূপ গঠিত হয়।
— লালমাই পাহাড় অঞ্চলে **লাল বর্ণের বেলেপাথর** দেখা যায়, যা প্লায়িস্টোসিন যুগেরই নিদর্শন।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) বান্দরবান:**
— বান্দরবান অঞ্চলে প্রধানত **টারশিয়ারি যুগের** (Tertiary Period) শিলাস্তর দেখা যায়, যেমন **পাথর গঠন ও পাললিক শিলা**। প্লায়িস্টোসিন যুগের শিলাস্তর এখানে অনুপস্থিত।
✗ **খ) কুষ্টিয়া:**
— কুষ্টিয়া অঞ্চলে প্রধানত **হলোসিন যুগের** (Holocene Epoch) পলিমাটি দেখা যায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের। প্লায়িস্টোসিন যুগের শিলাস্তর এখানে পাওয়া যায় না।
✗ **ঘ) বরিশাল:**
— বরিশাল অঞ্চলে প্রধানত **নদীবাহিত পলিমাটি ও সাম্প্রতিক যুগের ভূমিরূপ** দেখা যায়। প্লায়িস্টোসিন যুগের শিলাস্তর এখানে অনুপস্থিত।
---
**উৎস:**
— ভূতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সরকার (Geological Survey of Bangladesh) – *ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র ও প্রতিবেদন*
— *বাংলাদেশের ভূতত্ত্ব* (ড. এম. এ. রহমান, ভূতত্ত্ব বিভাগ, ঢ