ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ , আধা – চিরহরিৎ জাতীয়
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সম্পর্কিত ভূমিকা:
বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান একটি ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও আধা-চিরহরিৎ বনভূমি। এটি জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধির জন্য বিখ্যাত এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— **অবস্থান ও আয়তন**: লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ১,২৫০ হেক্টর (১২.৫ বর্গকিলোমিটার)।
— **বনভূমির ধরন**: এটি মূলত ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও আধা-চিরহরিৎ বনভূমির অন্তর্গত। এখানে বছরের অধিকাংশ সময় গাছপালা সবুজ থাকে, তবে কিছু গাছপালা শুষ্ক মৌসুমে পাতা ঝরায়।
— **জীববৈচিত্র্য**: উদ্যানটিতে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল। এখানে পাওয়া যায় বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ যেমন চাপালিশ, গর্জন, সেগুন, এবং বিভিন্ন ধরনের বাঁশ। এছাড়া এখানে উল্লুক, হনুমান, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও সরীসৃপ দেখা যায়।
— **প্রতিবেশগত গুরুত্ব**: লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ইকোট্যুরিজমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এটি বাংলাদেশের অন্যতম জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা হিসেবে স্বীকৃত।
— **প্রতিষ্ঠা**: এটি ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
— **জলবায়ু**: এখানকার জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির, যা ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনের জন্য উপযোগী।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) ক্রান্তীয় আর্দ্র পত্র পতনশীল জাতীয়: ক্রান্তীয় আর্দ্র পত্র পতনশীল বনভূমিতে গাছপালা শুষ্ক মৌসুমে সম্পূর্ণ পাতা ঝরিয়ে ফেলে, যা লাউয়াছড়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
✗ গ) পত্র পতনশীল জাতীয়: এটি খুবই সাধারণ শ্রেণিবিভাগ এবং লাউয়াছড়ার নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে না। লাউয়াছড়া মূলত চিরহরিৎ ও আধা-চিরহরিৎ প্রকৃতির।
✗ ঘ) ম্যানগ্রোভ জাতীয়: ম্যানগ্রোভ বনভূমি মূলত উপকূলীয় এলাকায় দেখা যায়, যেখানে লবণাক্ত পানি প্রবাহিত হয়। লাউয়াছড়া ম্যানগ্রোভ বনের অন্তর্গত নয়।
উৎস:
— বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর, জাতীয় উদ্যান সম্পর্কিত তথ্য।
— বাংলাদেশ জাতীয় উদ্যানসমূহের তালিকা, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়।
— "বাংলাদেশের বন ও জীববৈচিত্র্য" — ড. মোহাম্মদ আলী রেজা চৌধুরী।