ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল সর্বস্তরের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— **জাতির পিতা ও স্বাধীনতার ঘোষক**: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, যা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সূচনা। তাঁর এই ঘোষণা দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
— **সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব**: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ও সর্বাধিনায়ক। তাঁর নেতৃত্বেই গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার, যা ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু।
— **আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়**: তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায় করেন। তাঁর নেতৃত্বেই ভারত সরকার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করে।
— **মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণ**: তিনি যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক নির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর নেতৃত্বেই গঠিত হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূল কাঠামো।
— **জাতিসংঘে ভাষণ**: ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) কর্নেল শফিউল্লাহ: তিনি ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন সামরিক কর্মকর্তা, যিনি যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনী পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
✗ গ) জেনারেল এম. এ. জি ওসমানী: তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি, কিন্তু তাঁকে সর্বাধিনায়ক বলা হয় না। তিনি ছিলেন সামরিক কমান্ডার ইন চিফ, যিনি যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদান করেননি।
✗ ঘ) মেজর জিয়াউর রহমান: তিনি ছিলেন একজন সামরিক অফিসার, যিনি চট্টগ্রামে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান হন, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন না।
উৎস:
- বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত "মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র"
- মুজিবনগর সরকারের গঠন ও কার্যক্রম সম্পর্কিত সরকারি দলিল
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাস বিষয়ক প্রকাশনা
- জাতিসংঘে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সম্পর্কিত দলিল