ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) কৃষি
বাংলাদেশের পানি সম্পদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি কৃষি খাতে। কারণ দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল।
**কৃষি খাত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ যেখানে মোট জিডিপির প্রায় ১৩-১৪% আসে কৃষি থেকে (২০২২-২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী)।
— দেশের প্রায় ৪৭% মানুষ কৃষির সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।
— ধান, গম, পাট, আলু, সবজি ও ফলমূল উৎপাদনে পানির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ধান চাষে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়।
— বাংলাদেশে প্রায় ৭৫% পানি ব্যবহৃত হয় কৃষি খাতে, যেখানে অন্যান্য দেশে এই হার ৬০-৭০% এর মধ্যে থাকে।
— ভূগর্ভস্থ পানি ওSurface water (উপরের পানি) উভয়ই কৃষিতে ব্যবহৃত হয়। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
— বাংলাদেশের প্রধান তিনটি ফসল ধান, গম ও পাটের উৎপাদনে সেচের জন্য বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। ধান চাষে প্রতি হেক্টরে প্রায় ১০,০০০-১৫,০০০ ঘনমিটার পানি প্রয়োজন হয়।
— সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হয়, যার অধিকাংশই ধান চাষের জন্য।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) আবাসিক: আবাসিক খাতে পানির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হলেও তা কৃষির তুলনায় অনেক কম। শহরাঞ্চলে আবাসিক পানির চাহিদা বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলে কৃষিই প্রধান চাহিদা।
✗ গ) পরিবহন: বাংলাদেশে পরিবহন খাতে পানির ব্যবহার তুলনামূলকভাবে খুবই কম। নৌপথে পরিবহনের জন্য কিছুটা পানির প্রয়োজন হলেও তা উল্লেখযোগ্য নয়।
✗ ঘ) শিল্প: শিল্প খাতে পানির চাহিদা ক্রমবর্ধমান হলেও তা কৃষির তুলনায় অনেক কম। বাংলাদেশের শিল্প খাতের পানির চাহিদা মোট চাহিদার প্রায় ৫-৭%।
উৎস:
১. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS), ২০২২-২৩ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন।
২. বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB), বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২২।
৩. FAO (Food and Agriculture Organization), Water Resources in Bangladesh, 2021.