ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) প্রাকৃতিক গ্যাস
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, গৃহস্থালি জ্বালানি এবং পরিবহন খাতের উল্লেখযোগ্য অংশ এই সম্পদের উপর নির্ভরশীল।
**প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের আবিষ্কার ও উত্তোলন শুরু হয় ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৬০-এর দশকে তিতাস, বাখরাবাদ, রশিদপুরসহ আরও কয়েকটি ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
— দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৮০% আসে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। তিতাস গ্যাসক্ষেত্র দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
— বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (BAPEX) দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসক্ষেত্রগুলোর অনুসন্ধান ও উৎপাদনের দায়িত্ব পালন করে।
— দেশের প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলো হলো: তিতাস, বাখরাবাদ, বিবিয়ানা, জালালাবাদ, রশিদপুর, সাঙ্গু, কুতুবদিয়া, মৌলভীবাজার, ফেনী, সেমুতাং, মোল্লাহাটি, এবং শ্রীকাইল।
— বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় গ্যাস গ্রিড প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে পায়রা গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) কয়লা: বাংলাদেশে কয়লার মজুদ রয়েছে (বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়িয়া, দিঘিপাড়া ইত্যাদি), তবে এটি প্রধান খনিজ সম্পদ নয়। কয়লা প্রধানত বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় এর ভূমিকা কম।
✗ গ) চুনাপাথর: চুনাপাথর বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কাঁচামাল (সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত হয়), তবে এটি প্রধান খনিজ সম্পদ নয়। দেশের প্রধান চুনাপাথরের উৎস হলো জয়পুরহাটের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
✗ ঘ) চীনামাটি: চীনামাটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, যা সিরামিক শিল্পে ব্যবহৃত হয়। দেশের প্রধান চীনামাটির উৎস হলো নেত্রকোনার বিজয়পুর। তবে এটি প্রধান খনিজ সম্পদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়।
উৎস:
- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (BAPEX) এর বার্ষিক প্রতিবেদন।
- বাংলাদেশ সরকারের শক্তি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য।
- "বাংলাদেশের অর্থনীতি" (ড. কাজী শাহনাজ পারভীন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়)।