ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) চট্টগ্রামে
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের প্রথম ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও শিল্পায়নের পথ সুগম করতে চেয়েছিল।
**বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড স্থাপিত হয় **১৯৮৩ সালে**।
— এটি স্থাপিত হয় **চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায়** (বর্তমানে সীতাকুণ্ড উপজেলা অংশ হিসেবে বিবেচিত)।
— সরকারি নাম ছিল **"চট্টগ্রাম ইপিজেড"** (Chittagong Export Processing Zone - CEPZ)।
— এটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা এবং রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপনে সহায়তা প্রদান।
— চট্টগ্রাম ইপিজেড প্রতিষ্ঠার ফলে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পায় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক হয়।
— পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার আরও কয়েকটি ইপিজেড স্থাপন করে, যেমন: ঢাকা ইপিজেড (সাভার), মংলা ইপিজেড, ঈশ্বরদী ইপিজেড ইত্যাদি।
— চট্টগ্রাম ইপিজেড এখন **"সীতাকুণ্ড ইপিজেড"** নামে পরিচিত এবং এটি দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল হিসেবে বিবেচিত।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) সাভারে: সাভারে বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড নয়। সাভারে অবস্থিত ইপিজেডটি প্রতিষ্ঠিত হয় পরবর্তীতে (১৯৯৩ সালে) এবং এটি "ঢাকা ইপিজেড" নামে পরিচিত।
✗ গ) মংলায়: মংলা ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে, যা চট্টগ্রাম ইপিজেডের পরে।
✗ ঘ) ঈশ্বরদীতে: ঈশ্বরদী ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০১ সালে, যা দেশের চতুর্থ ইপিজেড হিসেবে পরিচিত।
**উৎস:**
- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA) এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: [www.beza.gov.bd](https://www.beza.gov.bd)
- বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রকাশনা: "বাংলাদেশের ইপিজেডসমূহ"
- বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন (বৈদেশিক বিনিয়োগ ও ইপিজেড সম্পর্কিত তথ্য)