সঠিক উত্তর: (গ) সাঙ্গু ভ্যালি
বাংলাদেশের সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র সম্পর্কিত ভূমিকা:
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের প্রথম আবিষ্কৃত সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে সাঙ্গু ভ্যালি উল্লেখযোগ্য। সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্রগুলো অনুসন্ধান ও উত্তোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
**সাঙ্গু ভ্যালি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সাঙ্গু ভ্যালি বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের উত্তর অংশে অবস্থিত একটি সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র।
— এটি বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।
— ১৯৯৪ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনোকাল কর্পোরেশন সাঙ্গু ভ্যালিতে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করে।
— ১৯৯৬ সালে সাঙ্গু ভ্যালিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয় এবং একই বছরে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।
— সাঙ্গু ভ্যালি থেকে প্রাপ্ত গ্যাস বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে ব্যবহৃত হয়।
— সাঙ্গু ভ্যালির গ্যাসক্ষেত্রটি বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী দ্বীপ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
— সাঙ্গু ভ্যালির গ্যাসক্ষেত্রটির আনুমানিক গ্যাস মজুদ প্রায় ২.৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
— সাঙ্গু ভ্যালি থেকে উত্তোলিত গ্যাস বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) দ্বারা পরিচালিত হয়।
— সাঙ্গু ভ্যালির গ্যাসক্ষেত্রটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক জ্বালানি সম্পদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) হাতিয়া প্রণালী: হাতিয়া প্রণালী বাংলাদেশের একটি সামুদ্রিক এলাকা, কিন্তু এটি কোনো গ্যাসক্ষেত্র নয়। এটি মূলত একটি প্রণালী যা হাতিয়া দ্বীপ ও মূল ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত।
✗ খ) জাফোর্ড পয়েন্ট: জাফোর্ড পয়েন্ট বাংলাদেশের একটি সামুদ্রিক এলাকা, কিন্তু এটি কোনো গ্যাসক্ষেত্র নয়। এটি মূলত একটি সামুদ্রিক বিন্দু যা সামুদ্রিক অনুসন্ধান ও গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হয়।
✗ ঘ) মাতারবাড়ি: মাতারবাড়ি বাংলাদেশের একটি উপকূলীয় এলাকা, যেখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এটি কোনো গ্যাসক্ষেত্র নয়।
উৎস:
— বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
— বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য।
— ইউনোকাল কর্পোরেশনের প্রতিবেদন।