সঠিক উত্তর: (ঘ) কক্সবাজার
বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও দ্বীপসমূহ সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষায় প্রায়শই আসে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান।
**সেন্টমার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ।
— দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার। এটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৫ কিলোমিটার প্রশস্ত।
— দ্বীপটির পূর্ব নাম ছিল "নারিকেল জিনজিরা"। পর্তুগিজরা দ্বীপটিকে "সাও মার্টিনহো" নামে অভিহিত করত, যা পরবর্তীতে সেন্টমার্টিন নামে পরিচিতি লাভ করে।
— দ্বীপটির প্রধান অর্থনীতি পর্যটন ও মৎস্য শিল্পের উপর নির্ভরশীল। স্থানীয় অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হলো মাছ ধরা এবং পর্যটকদের সেবা প্রদান।
— দ্বীপটিতে প্রবাল দ্বীপের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রচুর প্রবাল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রয়েছে। এটি সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজননস্থল হিসেবেও পরিচিত।
— দ্বীপটির দক্ষিণে অবস্থিত "নারিকেল বাগান" পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া দ্বীপটির চারপাশে রয়েছে স্বচ্ছ নীল জলরাশি ও সাদা বালির সমুদ্র সৈকত।
— দ্বীপটিতে কোনো স্থায়ী সরকারি অফিস বা ব্যাংক নেই। স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ভোলা: ভোলা জেলা বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ। তবে সেন্টমার্টিন ভোলা জেলায় অবস্থিত নয়। ভোলা জেলা মূলত বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত।
✗ খ) নোয়াখালী: নোয়াখালী জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থিত। তবে সেন্টমার্টিন দ্বীপ নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত নয়। নোয়াখালীর প্রধান দ্বীপ হলো হাতিয়া।
✗ গ) চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। তবে সেন্টমার্টিন দ্বীপ চট্টগ্রাম জেলার সরাসরি অধীনে নয়। এটি কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত।
উৎস:
— বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (www.bangladesh.gov.bd)
— ভূগোল ও পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সরকার
— বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (www.bangladeshtourism.gov.bd)
— "বাংলাদেশের ভূগোল" (ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যপুস্তক)