ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) তৈরি পোশাক
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হলো তৈরি পোশাক শিল্প। স্বাধীনতার পর থেকেই এই খাত ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে এবং বর্তমানে এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত।
**তৈরি পোশাক শিল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে, যখন দেশের প্রথম গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান "রিয়াজ গার্মেন্টস" প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮০-এর দশকে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় এই শিল্প দ্রুত প্রসারিত হয়।
— বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত। শীর্ষে রয়েছে চীন।
— দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৪% আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে (২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী)। এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস।
— তৈরি পোশাক শিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই নারী শ্রমিক।
— প্রধান রপ্তানি গন্তব্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা। ইইউ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার।
— এই শিল্পের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান করে থাকে, যেমন কর অবকাশ, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ইত্যাদি।
— তৈরি পোশাক শিল্পের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) চা: চা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য হলেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এর অবদান তুলনামূলকভাবে কম। দেশের মোট রপ্তানিতে চায়ের অবদান প্রায় ১% এরও কম।
✗ খ) পাট ও পাটজাত দ্রব্য: পাট বাংলাদেশের স্বর্ণালী অতীতের প্রতীক হলেও বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এর অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। দেশের মোট রপ্তানিতে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের অবদান প্রায় ১.৫% এর মতো।
✗ ঘ) চিংড়ি মাছ: চিংড়ি মাছ রপ্তানি করে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে, তবে এর পরিমাণ তৈরি পোশাক খাতের তুলনায় অনেক কম। দেশের মোট রপ্তানিতে চিংড়ির অবদান প্রায় ২-৩%।
উৎস:
— বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন (২০২২-২৩)
— Export Promotion Bureau (EPB) এর তথ্য
— Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association (BGMEA) এর তথ্য