ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ৯৩ হাজার যুদ্ধবন্দির বিচার অনুষ্ঠান
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সম্পর্কিত প্রেক্ষাপট:
১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে প্রথম সংশোধনী আনা হয়। এই সংশোধনীটি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনকারী যুদ্ধবন্দিদের বিচারের জন্য সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— **যুদ্ধাপরাধীদের বিচার**: প্রথম সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি করা। এতে বলা হয় যে, যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধী অপরাধী এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অন্যান্য অপরাধীদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যাবে।
— **সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৭-এর পরিবর্তন**: প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৭-এর পরিবর্তন করা হয়। এতে বলা হয় যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যকর করা যাবে, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও প্রদান করা যাবে।
— **যুদ্ধবন্দিদের বিচার**: এই সংশোধনীর ফলে পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনকারী প্রায় ৯৩ হাজার যুদ্ধবন্দির বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।
— **আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সমন্বয়**: প্রথম সংশোধনীটি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণীত হয়েছিল, যাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হতে পারে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) জরুরি অবস্থা ঘোষণা: এটি বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতা প্রদান করে।
✗ খ) মহিলাদের জন্য সংসদের আসন সংরক্ষণ: মহিলাদের জন্য সংসদে আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে।
✗ গ) সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা: সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সংবিধানের মূল কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত ছিল, প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎস:
— বাংলাদেশের সংবিধান, প্রথম সংশোধনী, ১৯৭৩
— বাংলাদেশ সরকারের প্রজ্ঞাপন ও আইন সংক্রান্ত দলিল
— আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩
— বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী রচিত "বাংলাদেশের সংবিধান" গ্রন্থ