ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) তত্ত্বাবধায়ক সরকার
বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী সম্পর্কিত পরীক্ষা-প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী এই ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
**তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ত্রয়োদশ সংশোধনীটি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত হয়। চতুর্থ সংশোধনী দ্বারা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বহুদলীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য বাতিল করা হয়।
— ত্রয়োদশ সংশোধনী সংবিধানের ৫৮(গ) অনুচ্ছেদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে। এই ব্যবস্থা অনুসারে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হতো।
— তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ছিলেন প্রধান বিচারপতি বা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। এই সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ করা।
— ত্রয়োদশ সংশোধনীটি ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯৬ নামে পরিচিত। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
— এই সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) বহুদলীয় ব্যবস্থা: বহুদলীয় ব্যবস্থা বাংলাদেশে পুনঃপ্রবর্তিত হয়েছিল চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে, ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয় নয়।
✗ খ) বাকশাল প্রতিষ্ঠা: বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে, যা পরবর্তীতে বহুদলীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য বাতিল করা হয়।
✗ ঘ) সংসদে মহিলা আসন: সংসদে মহিলা আসন সংরক্ষণের বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করা হয়।
উৎস:
— বাংলাদেশের সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধনী) আইন, ১৯৯৬
— বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) প্রণীত সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক প্রশ্নব্যাংক
— বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বিষয়ক বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক