ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) দ্বাদশ সংশোধনী
বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই সংশোধনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
**দ্বাদশ সংশোধনী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— দ্বাদশ সংশোধনীটি বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী (১৯৭৫) এবং পঞ্চম সংশোধনী (১৯৭৯) দ্বারা প্রবর্তিত রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থাকে বাতিল করে পুনরায় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করে।
— এই সংশোধনীটি ১৯৯১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদে গৃহীত হয় এবং ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়।
— দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদের ক্ষমতা হ্রাস করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
— সংশোধনীটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের অধীনস্থ করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীকে সরকার প্রধান হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়।
— এই সংশোধনীর ফলে বাংলাদেশ আবার সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসে, যা ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক শাসনের কারণে বিলুপ্ত হয়েছিল।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ (ক) অষ্টম সংশোধনী: এটি ১৯৮৫ সালে গৃহীত হয়েছিল, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে কিছু ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়নি।
✗ (খ) নবম সংশোধনী: এটি ১৯৮৯ সালে গৃহীত হয়েছিল, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন করা হয়নি।
✗ (গ) একাদশ সংশোধনী: এটি ১৯৯১ সালে গৃহীত হয়েছিল, যার মাধ্যমে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদের অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিধান করা হয়েছিল, কিন্তু সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন করা হয়নি।
উৎস:
— বাংলাদেশের সংবিধান, দ্বাদশ সংশোধনী, ১৯৯১
— বাংলাদেশ সরকারি গেজেট, বিভিন্ন সংশোধনী সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি
— সাধারণ জ্ঞান বই (বিসিএস প্রস্তুতি), বিভিন্ন সংস্করণ