ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ব্র্যাক অন্বেষা
বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলো দেশের প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট "ব্র্যাক অন্বেষা"। এটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের দ্বারা নির্মিত প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ, যা মহাকাশ গবেষণায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করেছে।
**ব্র্যাক অন্বেষা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **উৎক্ষেপণ তারিখ ও স্থান:** ব্র্যাক অন্বেষা স্যাটেলাইটটি ২০১৭ সালের ৮ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল থেকে স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) প্রেরণ করা হয়।
— **প্রকল্পের উদ্যোক্তা:** ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত দল এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পটির নেতৃত্বে ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. মো. খলিলুর রহমান।
— **স্যাটেলাইটের ধরন ও উদ্দেশ্য:** ব্র্যাক অন্বেষা একটি ন্যানো স্যাটেলাইট (৩ইউ কিউবস্যাট), যার আয়তন প্রায় ১০ সেমি × ১০ সেমি × ৩০ সেমি এবং ওজন প্রায় ১ কেজি। এটি মূলত মহাকাশ গবেষণা, পৃথিবীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, এবং শিক্ষার্থীদের মহাকাশ প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল।
— **মিশনের স্থায়িত্ব:** ব্র্যাক অন্বেষা মহাকাশে প্রায় ১৮ মাস কার্যক্রম পরিচালনা করে। এটি পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণ করার সময় বিভিন্ন ধরনের ডেটা সংগ্রহ ও প্রেরণ করে।
— **প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য:** স্যাটেলাইটটিতে একটি উচ্চ-রেজোলিউশন ক্যামেরা, জিপিএস ট্র্যাকার, এবং বিভিন্ন সেন্সর ছিল। এটি মহাকাশ থেকে পৃথিবীর ছবি তুলে পাঠাতে সক্ষম ছিল।
— **অর্থায়ন ও সহযোগিতা:** ব্র্যাক অন্বেষা প্রকল্পটি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (KIT)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। প্রকল্পটির অর্থায়নে সহায়তা করে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) বিকন অন্বেষা: এটি বাংলাদেশের কোনো স্যাটেলাইট নয়। এটি একটি ভুল নাম যা বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।
✗ গ) নোয়া ১৮: নোয়া (NOAA) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের পরিচালিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট। এটি বাংলাদেশের কোনো স্যাটেলাইট নয়।
✗ ঘ) নোয়া ১৯: এটি নোয়া সিরিজের আরেকটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট, যা বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কিত নয়।
উৎস:
— ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (https://www.bracu.ac.bd/)
— স্পেসএক্স-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (https://www.spacex.com/)
— বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রকাশনা