ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) লালপুর, নাটোর
বাংলাদেশের জলবায়ু বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা:
বাংলাদেশ একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশ হওয়ায় এখানে তাপমাত্রা সাধারণত বেশি থাকে। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রার তারতম্য দেখা যায়। সরকারি তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে, বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত এলাকায়।
**লালপুর, নাটোর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— লালপুর বাংলাদেশের নাটোর জেলার একটি উপজেলা। এটি রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।
— লালপুর উপজেলা বাংলাদেশের অন্যতম উষ্ণতম স্থান হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রায়শই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
— বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, লালপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে **৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস** (২০২৩ সালে)। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড।
— লালপুর উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান (২৪.৩৫° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.২৫° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) এবং ভূমির গঠনের কারণে এখানে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
— লালপুরের তাপমাত্রা বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এ অঞ্চলের ভূমি অধিকাংশই সমতল এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) পুটিয়া, রাজশাহী: পুটিয়া রাজশাহী জেলার একটি এলাকা হলেও এটি বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান হিসেবে পরিচিত নয়। এখানে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম রেকর্ড করা হয়।
✗ খ) নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: নাচোল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা হলেও এটি উষ্ণতম স্থান হিসেবে পরিচিত নয়। এ অঞ্চলের তাপমাত্রা লালপুরের তুলনায় কম।
✗ ঘ) ঈশ্বরদী, পাবনা: ঈশ্বরদী পাবনা জেলার একটি উপজেলা। এখানেও তাপমাত্রা বেশি রেকর্ড করা হয়, তবে লালপুরের তুলনায় কম। ঈশ্বরদীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় **৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস** পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে, যা লালপুরের তুলনায় সামান্য কম।
উৎস:
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (www.bmd.gov.bd) – সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্য।
- নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় – লালপুর উপজেলার ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত তথ্য।
- বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্বকোষ (বাংলাপিডিয়া) – বাংলাদেশের জলবায়ু বিষয়ক তথ্য।