ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ৮৩.৫%
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের মোট রপ্তানি আয়ে এই খাতটির অবদান সর্বাধিক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস হিসেবে আরএমজি খাতটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
**রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে রেডিমেড গার্মেন্টস খাতের অবদান প্রায় ৮০% থেকে ৮৫% পর্যন্ত। বিভিন্ন সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
— ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৫৫.৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে রেডিমেড গার্মেন্টস খাত থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৪৬.৯৯ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪.৬%।
— বাংলাদেশের আরএমজি খাত বিশ্ববাজারে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত।
— এই খাত দেশের প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে, যার অধিকাংশই নারী শ্রমিক।
— প্রধান রপ্তানি গন্তব্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া।
— বাংলাদেশের আরএমজি খাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কম খরচে উচ্চমানের পোশাক উৎপাদন করা, যা আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ৪১.৯%: এই পরিসংখ্যানটি বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে অন্যান্য খাতের অবদানকে নির্দেশ করতে পারে, যেমন চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ইত্যাদি। এটি আরএমজি খাতের অবদান নয়।
✗ খ) ৫৬.৮%: এই পরিসংখ্যানটি বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে অন্যান্য খাতের অবদানের একটি অনুমান হতে পারে, তবে এটি আরএমজি খাতের প্রকৃত অবদান নয়।
✗ গ) ৭৪.৬%: এই পরিসংখ্যানটি বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে আরএমজি খাতের অবদানের কাছাকাছি হলেও প্রকৃত তথ্য অনুসারে এটি কিছুটা কম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরএমজি খাতের অবদান ৮০% এর উপরে।
**উৎস:**
— Export Promotion Bureau (EPB), Bangladesh (২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রতিবেদন)
— Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association (BGMEA) (২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন)
— World Trade Organization (WTO) (বিশ্ব বাণিজ্য প্রতিবেদন, ২০২৩)