ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ১৭৯৩ সালে
**চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত সম্পর্কিত ভূমিকা:**
বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। এটি ছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজস্ব আদায়ের একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা, যা বাংলার অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোয় গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
**চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **প্রবর্তনের সাল:** চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হয় **১৭৯৩ সালে**। লর্ড কর্নওয়ালিসের নেতৃত্বে ব্রিটিশ সরকার এই ব্যবস্থা চালু করে।
— **উদ্দেশ্য:** রাজস্ব আদায়ের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি, জমিদারদের অধিকার সুসংহত করা এবং কোম্পানির আয় বৃদ্ধি করা ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।
— **ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য:**
— জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকানা প্রদান করা হয়।
— জমিদারদের নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব সরকারকে প্রদান করতে হতো।
— রাজস্ব প্রদানে ব্যর্থ হলে জমিদারদের জমি নিলামে বিক্রি করা হতো।
— **প্রভাব:**
— জমিদার শ্রেণির উত্থান ঘটে, যারা পরবর্তীতে বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।
— কৃষকদের অবস্থার অবনতি ঘটে, কারণ তারা জমিদারদের অধীনে আরও শোষণের শিকার হন।
— বাংলার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর হয়ে পড়ে এবং শিল্পায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) ১৭০০ সালে:** এই সালটি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অনেক আগের। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তখনও বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
✗ **খ) ১৭৭২ সালে:** এই বছর বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু হয়, যা লর্ড ক্লাইভের সময়ে প্রবর্তিত হয়েছিল। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়।
✗ **গ) ১৭৬৫ সালে:** এই বছর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভ করে, কিন্তু চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত তখনও চালু হয়নি।
**উৎস:**
— *ভারতবর্ষের ইতিহাস* — বিপান চন্দ্র
— *বাংলাদেশের ইতিহাস* — সালাহউদ্দিন আহমেদ
— *BCS সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নব্যাংক* — বিভিন্ন প্রকাশনী