ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) হাজী শরীয়তউল্লাহ
ফরায়েজী আন্দোলন ছিল ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলার মুসলিম সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আন্দোলন। এই আন্দোলন মূলত ইসলামের প্রকৃত বিধান ফরায়েজ (ফরজ বিধান) পালনের উপর গুরুত্ব আরোপ করে এবং সমাজ থেকে কুসংস্কার ও অনৈসলামিক প্রথা দূর করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।
**হাজী শরীয়তউল্লাহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তিনি ১৭৮১ সালে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
— তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর কলকাতায় গিয়ে ইসলামি শিক্ষা অর্জন করেন এবং পরে আরব দেশে গমন করে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা লাভ করেন।
— তিনি ফরায়েজী আন্দোলনের সূচনাকারী হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বে এই আন্দোলন বাংলার মুসলিম সমাজে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
— তিনি মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত অনৈসলামিক প্রথা যেমন হিন্দুদের সাথে বিবাহ, মাজার পূজা, পীর-মুরিদি প্রথা ইত্যাদির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন।
— তিনি মুসলমানদেরকে ইসলামের প্রকৃত বিধান অনুসারে জীবনযাপনের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন এবং ফরজ বিধান পালনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
— তার মৃত্যুর পর তার পুত্র দুদু মিয়া আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) তিতুমীর: তিনি ফরায়েজী আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ের নেতা ছিলেন, যিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তিনি ফরায়েজী আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু সূচনাকারী ছিলেন না।
✗ খ) হাজী মোহাম্মদ মহসীন: তিনি একজন সমাজ সংস্কারক ছিলেন, কিন্তু ফরায়েজী আন্দোলনের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তিনি শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে অবদান রাখেন।
✗ ঘ) হাজী মোহাম্মদ দানেশ: তিনি একজন শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন, কিন্তু ফরায়েজী আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন না। তিনি মুসলিম সমাজের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখেন।
উৎস:
- ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত "বাংলাদেশের ইতিহাস" (মুসলিম যুগ)।
- ড. আবদুল করিম রচিত "ফরায়েজী আন্দোলন"।
- বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক।