ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
বাতাসকে চুম্বকত্বের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। পদার্থের চুম্বকত্বের ধরন নির্ভর করে তার ইলেকট্রনের বিন্যাস ও চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রতি তার সাড়া দেওয়ার ক্ষমতার উপর। বাতাসের মতো গ্যাসীয় পদার্থ সাধারণত চুম্বকত্ব প্রদর্শন করে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল চুম্বকত্ব দেখা যায়। বাতাস প্রধানত অক্সিজেন (O₂) এবং নাইট্রোজেন (N₂) গ্যাসের মিশ্রণ। অক্সিজেনের দুটি ইলেকট্রন বিপরীত ঘূর্ণনের কারণে এটি সামান্য চুম্বকত্ব প্রদর্শন করে, যা প্যারাচুম্বকত্বের বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে, নাইট্রোজেনের ইলেকট্রন বিন্যাস এমন যে এটি চুম্বকত্ব প্রদর্শন করে না। ফলে সামগ্রিকভাবে বাতাসকে প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
**প্যারাচুম্বকত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— প্যারাচুম্বকত্ব হলো পদার্থের এমন একটি ধর্ম যেখানে পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে দুর্বলভাবে আকৃষ্ট হয়।
— প্যারাচুম্বক পদার্থের ইলেকট্রনগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত থাকে যে তারা চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে সামান্য সাড়া দেয়।
— প্যারাচুম্বক পদার্থের চৌম্বকগ্রাহিতা ধনাত্মক কিন্তু খুবই দুর্বল (χ > 0)।
— প্যারাচুম্বক পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্র সরিয়ে নিলে নিজের চুম্বকত্ব হারিয়ে ফেলে।
— উদাহরণ: অক্সিজেন (O₂), অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, সোডিয়াম ইত্যাদি।
**ডায়াচুম্বকত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ডায়াচুম্বক পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রের বিপরীতে দুর্বলভাবে বিকর্ষিত হয়।
— ডায়াচুম্বক পদার্থের চৌম্বকগ্রাহিতা ঋণাত্মক (χ < 0)।
— ডায়াচুম্বক পদার্থের ইলেকট্রনগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত থাকে যে তারা চৌম্বক ক্ষেত্রের বিপরীতে সাড়া দেয়।
— উদাহরণ: কপার, জিঙ্ক, পানি, হাইড্রোজেন ইত্যাদি।
**ফেরোচুম্বকত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ফেরোচুম্বক পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে শক্তিশালীভাবে আকৃষ্ট হয়।
— ফেরোচুমক পদার্থের চৌম্বকগ্রাহিতা খুবই উচ্চ (χ >> 0)।
— ফেরোচুম্বক পদার্থ স্থায়ী চুম্বকত্ব ধারণ করতে পারে।
— উদাহরণ: লোহা (Fe), নিকেল (Ni), কোবাল্ট (Co), গ্যাডোলিনিয়াম ইত্যাদি।
**অ্যান্টিফেরোচুম্বকত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— অ্যান্টিফেরোচুম্বক পদার্থ এমন পদার্থ যেখানে ইলেকট্রনের চৌম্বক ভ্রামক বিপরীত দিকে সাজানো থাকে।
— ফলে সামগ্রিক চুম্বকত্ব প্রায় শূন্য হয়।
— অ্যান্টিফেরোচুম্বক পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রতি দুর্বলভাবে সাড়া দেয়।
— উদাহরণ: ম্যাঙ্গানিজ (Mn), ক্রোমিয়াম (Cr), আয়রন অক্সাইড (Fe₂O₃) ইত্যাদি।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ