ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) সংসদ সদস্যদের উত্থাপিত বিল
বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বেসরকারি বিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। সরকারি বিলের বিপরীতে সংসদ সদস্যরা নিজ উদ্যোগে যে বিল উত্থাপন করেন তাকে বেসরকারি বিল বলা হয়।
**বেসরকারি বিল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ সদস্যরা নিজ উদ্যোগে বিল উত্থাপন করতে পারেন।
— বেসরকারি বিল উত্থাপনের জন্য সংসদ সদস্যকে সংসদ নেতার অনুমতি নিতে হয়।
— বেসরকারি বিল সরকারি বিলের মতোই সংসদে আলোচিত ও ভোটের মাধ্যমে পাস হয়।
— সরকারি বিলের তুলনায় বেসরকারি বিল পাস হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন, কারণ এতে সরকারের সরাসরি সমর্থন থাকে না।
— বাংলাদেশের সংসদে অধিকাংশ বিলই সরকারি বিল হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদ সদস্যদের উদ্যোগে পাস হয়েছে, যেমন: "নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০"।
— বেসরকারি বিল উত্থাপনের জন্য সংসদ সদস্যকে একটি প্রস্তাবনা লিখিত আকারে স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়।
— বেসরকারি বিল প্রক্রিয়ায় সরকারি দলের সদস্যরাও অংশগ্রহণ করতে পারেন, তবে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রায়শই এ ধরনের বিল উত্থাপন করেন।
— বেসরকারি বিল পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করলে তা আইনে পরিণত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ (ক) স্পিকার যে বিলকে বেসরকারী বলে ঘোষণা দেন: স্পিকার কোনো বিলকে বেসরকারি হিসেবে ঘোষণা করেন না, বরং সংসদ সদস্যরা নিজ উদ্যোগে বিল উত্থাপন করেন।
✗ (গ) বিরোধী দলের সদস্যদের উত্থাপিত বিল: বিরোধী দলের সদস্যরা বেসরকারি বিল উত্থাপন করতে পারেন, তবে এটি শুধুমাত্র বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সরকারি দলের সদস্যরাও বেসরকারি বিল উত্থাপন করতে পারেন।
✗ (ঘ) রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ঘোষিত বিল: রাষ্ট্রপতি কোনো বিল ঘোষণা করেন না, তিনি শুধুমাত্র সংসদে পাস হওয়া বিলে সম্মতি প্রদান করেন।
উৎস:
— বাংলাদেশের সংবিধান, ১৯৭২ (৮৯ অনুচ্ছেদ)
— সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধিমালা, ২০১৯
— বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্তৃক প্রকাশিত "সংসদীয় প্রক্রিয়া ও কার্যপ্রণালী" বিষয়ক নির্দেশিকা