ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ১৯৪২ সালে
‘ভারত ছাড়’ আন্দোলন সম্পর্কে পরীক্ষা-প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
ভারত ছাড় আন্দোলন ছিল ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন। এটি মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়। এই আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
‘ভারত ছাড়’ আন্দোলন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— ভারত ছাড় আন্দোলন শুরু হয় ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বোম্বাই অধিবেশনে গৃহীত একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে।
— মহাত্মা গান্ধী এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং তার বিখ্যাত উক্তি "Do or Die" (করবো অথবা মরবো) এই আন্দোলনের মূলমন্ত্র ছিল।
— এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারকে ভারত ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা এবং ভারতকে স্বাধীনতা প্রদানের দাবি জানানো।
— ব্রিটিশ সরকার এই আন্দোলনকে দমন করার জন্য ব্যাপক দমননীতি প্রয়োগ করে। নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা হয় এবং আন্দোলনকে নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়।
— এই আন্দোলনের ফলে ভারতীয় জনগণের মধ্যে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব আরও শক্তিশালী হয় এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের গতি ত্বরান্বিত হয়।
— এই আন্দোলনের সময় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, যার ফলে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের স্বাধীনতার দাবিকে আরও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ১৯১৭ সালে: ১৯১৭ সালে ভারতে কোনো বৃহৎ আন্দোলন শুরু হয়নি। এই বছর ব্রিটিশ সরকার মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার ঘোষণা করে, যা ভারতীয়দের স্বায়ত্তশাসনের প্রাথমিক পদক্ষেপ ছিল, কিন্তু এটি কোনো গণআন্দোলন ছিল না।
✗ খ) ১৯২৭ সালে: ১৯২৭ সালে ভারতে সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়, যা ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাবকে আরও শক্তিশালী করে। তবে এটি ভারত ছাড় আন্দোলন নয়।
✗ গ) ১৯৩৭ সালে: ১৯৩৭ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। এটি কোনো গণআন্দোলন ছিল না, বরং নির্বাচনী রাজনীতি ছিল।
উৎস:
— ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, ড. বিপান চন্দ্র
— BCS সাধারণ জ্ঞান গাইড, এমপিথ্রি প্রকাশনী
— ভারত ছাড় আন্দোলন: প্রেক্ষাপট ও প্রভাব, ড. এস. গোপাল