ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) দু’দেশের নদীগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধি
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন সম্পর্কিত ভূমিকা:
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নদীসমূহের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও যৌথ উদ্যোগের জন্য প্রতিষ্ঠিত যৌথ নদী কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই কমিশনের মাধ্যমে দু’দেশের নদীসমূহের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে যৌথভাবে কাজ করা হয়।
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— প্রতিষ্ঠাকাল: ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই। এটি দু’দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।
— উদ্দেশ্য: কমিশনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দু’দেশের আন্তঃসীমান্ত নদীসমূহের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে যৌথভাবে কাজ করা।
— সদস্য: কমিশনে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন। দু’দেশের সরকারের প্রতিনিধিত্বমূলক সদস্যরা এই কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
— কার্যক্রম: কমিশনের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নদীর পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণ, নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, বন্যা পূর্বাভাস ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, এবং নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা ও সমাধান।
— গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি: কমিশনের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেমন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি (১৯৯৬), তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা ইত্যাদি।
— নাব্যতা বৃদ্ধি: কমিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দু’দেশের আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে নৌ-পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করা হয়।
— পরিবেশ সংরক্ষণ: কমিশন নদীর পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণেও কাজ করে। নদীর পানি দূষণ রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) দু’দেশের নদীগুলোর পলিমাটি অপসারণ: কমিশনের প্রধান লক্ষ্য নাব্যতা বৃদ্ধি হলেও পলিমাটি অপসারণ সরাসরি প্রধান লক্ষ্য নয়। এটি নাব্যতা বৃদ্ধির একটি উপায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কিন্তু কমিশনের প্রধান লক্ষ্য নয়।
✗ গ) বন্যা নিয়ন্ত্রণে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা: বন্যা নিয়ন্ত্রণ কমিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলেও এটি প্রধান লক্ষ্য নয়। কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো নাব্যতা বৃদ্ধি এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা।
✗ ঘ) দু’দেশের নৌ-পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন: নৌ-পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ