ব্যাখ্যা
প্রশ্নে উল্লেখিত মন্তব্যটি করেন প্রখ্যাত ভাষা-চিন্তক –
সুকুমার সেন
।
– তিনি তাঁর
‘ভাষার ইতিবৃত্ত’
গ্রন্থের
‘ভাষা ও উপভাষা’
নামক অধ্যায়ে মন্তব্যটি করেন।
– গ্রন্থটি প্রথম ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত হয়।
সুকুমার সেনের ভাষায় –
“মানুষমাত্রেই কোন না কোন সংসার-সীমানার অথবা সমাজগণ্ডীর অন্তর্গত। স্বাভাবিক অবস্থায় কোন ব্যক্তি সংসার অথবা সমাজ বিরহিত নয়। যে সংসার বা সমাজের মধ্যে মানুষ বাস করে সে সংসার ও সমাজভুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে তাহার চিত্তা উদ্দেশ্য এবং কর্মগত সমতা কিছু না কিছু থাকিবেই। ভাষা এই সমতার প্রধান সাধন। ভাষার মধ্য দিয়া আদিম মানুষের সামাজিক প্রবৃত্তির প্রথম অঙ্কুর প্রকাশ পাইয়াছিল । ভাষার মধ্য দিয়াই সেই সামাজিক প্রবৃত্তি নানাদিকে নানাভাবে প্রসারিত হইয়া আদিম নরকে পশুত্বের অন্ধজড়তা হইতে উদ্ধার করিয়া তাহাকে মননশীল করিয়াছে। প্রকৃতির দাসত্ব হইতে মুক্তি পাইয়া মানুষ প্রকৃতির প্রভুত্বের অধিকারী হইয়াছে।
ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয় চিন্তার প্রসূতিও।
লতা যেমন মঞ্চ-অবলম্বন না পাইলে বাড়িতে পারে না চিত্তাও তেমনি ভাষা-অবলম্বন ব্যতিরেকে বিচরণ করিতে অক্ষম।
পশুর সমাজ নাই এবং তাহা থাকিবার কথাও নয়। পশু একাকী অথবা জোড় বাঁধিয়া কিংবা দল লইয়া ঘুরিয়া বেড়ায়। কিন্তু পশুর দল পশুর “সমাজ” নয়, সে দলে একটিমাত্র পুরুষ-প্রাণী—কর্তা। সে দলকে সমাজ নয়, বরং পরিবার বলিতে পারি। পশুর জীবনধারণ শুধু বাঁচিয়া থাকা, সুতরাং তাহার পক্ষে ভাষা নিতান্ত অনাবশ্যক। তবে শারীরিক প্রয়োজনে অনেক পশু বিশেষ বিশেষ ডাক ডাকে।”
——————
সুকুমার সেন:
– জানুয়ারি, ১৯০০ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
– তিনি ১৯৬৩ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার, ১৯৮১ সালে বিদ্যাসাগর পুরস্কার লাভ করেন।
তাঁর অন্যান্য রচনা:
– বাংলা স্থান নাম,
– বাংলায় নারীর ভাষা,
– বাংলা সাহিত্যে গদ্য,
– ভারতীয় আর্য সাহিত্যের,
– ভারত কথার গ্রন্থিমোচন,
– রামকথার প্রাক ইতিহাস,
– বটতলার ছাপা ও ছবি,
– বনফুলের ফুলবন,
– কলকাতার কাহিনি ইত্যাদি।
উৎস:
ভাষার ইতিবৃত্ত, সুকুমার সেন এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।