ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) এপিসেন্টার
ভূমিকম্প সম্পর্কিত ভূমিকা:
ভূমিকম্প হলো ভূত্বকের হঠাৎ কম্পন, যা সাধারণত ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরের চ্যুতি বা ভাঙনের কারণে ঘটে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে কম্পন তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করতে পারে।
**এপিসেন্টার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— এপিসেন্টার হলো ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল (ফোকাস) থেকে সরাসরি উপরের ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দু।
— এটি ভূমিকম্পের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এখানেই ভূমিকম্পের শক্তি সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়।
— ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত স্কেলগুলোর (যেমন রিখটার স্কেল) মান নির্ধারণে এপিসেন্টারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
— ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে এপিসেন্টারের অবস্থান ও গভীরতা বিশ্লেষণ করা হয়।
**ফোকাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ফোকাস হলো ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল, যেখানে ভূত্বকের শিলাস্তরে চ্যুতি বা ভাঙনের ঘটনা ঘটে।
— এটি ভূগর্ভের অভ্যন্তরে অবস্থিত এবং এপিসেন্টারের বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
— ফোকাসের গভীরতা অনুসারে ভূমিকম্পকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়: অগভীর (০-৭০ কিমি), মাঝারি (৭০-৩০০ কিমি) ও গভীর (৩০০ কিমি-এর বেশি)।
**ফ্রাকচার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ফ্রাকচার হলো ভূত্বকের শিলাস্তরে সৃষ্ট ফাটল বা ভাঙন।
— এটি ভূমিকম্পের অন্যতম প্রধান কারণ, কারণ শিলাস্তরের চ্যুতি বা ফ্রাকচারের ফলে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
— ফ্রাকচারের ধরন অনুসারে ভূমিকম্পের প্রকৃতি নির্ধারিত হয়।
**ফল্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ফল্ট হলো ভূত্বকের শিলাস্তরের এমন একটি অঞ্চল যেখানে দুটি শিলাস্তর একে অপরের সাপেক্ষে স্থানচ্যুত হয়।
— ভূমিকম্পের সময় ফল্ট লাইনে চ্যুতি ঘটে, যার ফলে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
— ফল্ট তিন ধরনের হতে পারে: স্বাভাবিক ফল্ট, বিপরীত ফল্ট ও স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্ট।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ফোকাস: ফোকাস হলো ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল, যা ভূগর্ভের অভ্যন্তরে অবস্থিত, ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দু নয়।
✗ গ) ফ্রাকচার: ফ্রাকচার হলো ভূত্বকের শিলাস্তরের ফাটল বা ভাঙন, যা ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে কিন্তু ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দু নয়।
✗ ঘ) ফল্ট: ফল্ট হলো শিলাস্তরের স্থানচ্যুত অঞ্চল, যা ভূমিকম্পের উৎস হতে পারে কিন্তু সরাসরি ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দু নয়।
উৎস:
— ভূমিকম্প ও ভূতত্ত্ব বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক (যেমন: ভূতত্ত্ববিদ্যা, ভূমিকম্প বিজ্ঞান)
— বাংলাদেশ ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (BDRC) এর প্রকাশিত তথ্য
— আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্র (USGS