ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) কিলোওয়াট ঘণ্টায়
বিদ্যুৎ বিল গণনার মূলনীতি সম্পর্কিত ভূমিকা:
বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব সাধারণত শক্তির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে করা হয়। বিদ্যুৎ শক্তির একক হিসেবে ব্যবহৃত হয় "ওয়াট" বা "কিলোওয়াট", এবং সময়ের সাথে গুণ করে শক্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণকে "কিলোওয়াট ঘণ্টা" (kWh) এককে প্রকাশ করা হয়।
**বিদ্যুৎ শক্তি ও বিদ্যুৎ বিল সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য:**
— বিদ্যুৎ শক্তির একক হলো **ওয়াট (W)**, যা প্রতি সেকেন্ডে ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণ নির্দেশ করে।
— ১ ওয়াট = ১ জুল/সেকেন্ড।
— বিদ্যুৎ শক্তির বৃহত্তর একক হলো **কিলোওয়াট (kW)**, যেখানে ১ কিলোওয়াট = ১০০০ ওয়াট।
— বিদ্যুৎ শক্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় শক্তি × সময় হিসেবে। অর্থাৎ, ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণ = ক্ষমতা (ওয়াট বা কিলোওয়াট) × সময় (ঘণ্টা)।
— বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণকে **কিলোওয়াট ঘণ্টা (kWh)** এককে প্রকাশ করা হয়। এটি হলো ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার যন্ত্র ১ ঘণ্টা চালালে যে শক্তি ব্যবহৃত হয় তার সমান।
— উদাহরণ: একটি ১০০ ওয়াটের বাল্ব ১০ ঘণ্টা চালালে ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণ = (১০০ ওয়াট × ১০ ঘণ্টা) = ১০০০ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ কিলোওয়াট ঘণ্টা (kWh)।
— বিদ্যুৎ বিল সাধারণত প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টার (kWh) ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের ব্যবহৃত মোট kWh-এর উপর ভিত্তি করে বিল প্রদান করে।
— বিদ্যুৎ বিল গণনার সময় ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণ ছাড়াও অন্যান্য চার্জ যেমন স্থায়ী চার্জ, কর, ভ্যাট ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ওয়াট আওয়ারে: ওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ শক্তির একক নয়, এটি একটি ভুল ধারণা। বিদ্যুৎ শক্তির একক হলো ওয়াট-ঘণ্টা (Wh) বা কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh)।
✗ খ) ওয়াটে: ওয়াট ক্ষমতার একক, শক্তির একক নয়। বিদ্যুৎ বিল শক্তির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে করা হয়, ক্ষমতার উপর নয়।
✗ গ) ভোল্টে: ভোল্ট হলো বৈদ্যুতিক বিভবের একক, বিদ্যুৎ শক্তির একক নয়। বিদ্যুৎ বিল শক্তির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে করা হয়, বিভবের উপর নয়।
উৎস:
— বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) কর্তৃক প্রকাশিত বিদ্যুৎ বিল গণনার নির্দেশিকা।
— "বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিজ্ঞান" বই, লেখক: ড. মো. আব্দুল মতিন।
— NTRCA প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান অংশের প্রশ্নব্যাংক।