সঠিক উত্তর: (ক) মহাস্থানগড়ে
**ভূমিকা:**
বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারে অসংখ্য সুফি সাধকের অবদান রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন শাহ সুলতান বলখী (রহ.), যিনি মহাস্থানগড়ে ইসলাম প্রচার করেন এবং সেখানেই তাঁর মাজার অবস্থিত।
---
**শাহ সুলতান বলখী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **জন্ম ও পরিচয়:** শাহ সুলতান বলখী মূলত মধ্য এশিয়ার বলখ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল শাহ সুলতান বলখী (রহ.)। তিনি ছিলেন একজন সুফি সাধক ও ইসলাম ধর্ম প্রচারক।
— **আগমন ও কর্মকাণ্ড:** তিনি বাংলায় ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আসেন এবং মহাস্থানগড়ে (প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন) স্থায়ী হন। তাঁর মাধ্যমে এই অঞ্চলে ইসলাম ধর্মের ব্যাপক প্রসার ঘটে।
— **মাজারের অবস্থান:** শাহ সুলতান বলখীর মাজার মহাস্থানগড় উপজেলার অন্তর্গত মহাস্থানগড় নামক ঐতিহাসিক স্থানেই অবস্থিত। এটি বগুড়া জেলায় অবস্থিত।
— **মাজারের গুরুত্ব:** এই মাজারটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান এই মাজার জিয়ারত করতে আসেন।
— **স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য:** মাজারটি একটি সুন্দর গম্বুজযুক্ত স্থাপনা। এর চারপাশে রয়েছে প্রাচীন আমলের নানা স্থাপত্য নিদর্শন।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **খ) শাহজাদপুরে:** শাহজাদপুরে শাহ সুলতান বলখীর মাজার নয়। এটি মূলত সিরাজগঞ্জ জেলার একটি স্থান, যেখানে অন্য কোনো সুফি সাধকের মাজার থাকতে পারে, কিন্তু শাহ সুলতান বলখীর মাজার নয়।
✗ **গ) নেত্রকোনায়:** নেত্রকোনা জেলায় শাহ সুলতান বলখীর মাজার অবস্থিত নয়। এটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি জেলা হলেও শাহ সুলতান বলখীর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ **ঘ) রামপালে:** রামপাল বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি উপজেলা। শাহ সুলতান বলখীর মাজার সেখানে অবস্থিত নয়। এটি মূলত বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত।
---
**উৎস:**
— *বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ* (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি)
— *বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য* (বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর)
— *ইসলাম প্রচারক সুফি সাধকদের ইতিহাস* (ড. মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান)