ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) উদাসীন
‘বিরাগী’ শব্দটি বাংলা সাহিত্যে ও সাধারণ ভাষায় ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। বিশেষ করে বাংলা কবিতা ও সাহিত্যে এই শব্দটির বহুল ব্যবহার দেখা যায়। ‘বিরাগী’ শব্দটি সংস্কৃত ‘বিরাগ’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ বৈরাগ্য বা অনাসক্তি।
**‘বিরাগী’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সংস্কৃত শব্দ ‘বিরাগ’ থেকে উদ্ভূত ‘বিরাগী’ শব্দটির অর্থ বৈরাগ্যপূর্ণ, অনাসক্ত, উদাসীন বা নিস্পৃহ।
— বাংলা সাহিত্যে বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য কবি-সাহিত্যিকরা এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
— ‘বিরাগী’ শব্দটি সাধারণত সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যিনি জাগতিক বিষয়ে অনাসক্ত বা বৈরাগ্যপূর্ণ মনোভাব পোষণ করেন।
— উদাহরণ: "বিরাগী সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করছেন।"
— বৈষ্ণব সাহিত্যেও ‘বিরাগী’ শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে এটি বৈষ্ণব সাধকদের অনাসক্ত জীবনযাপনের পরিচায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) প্রতিকূল: ‘প্রতিকূল’ শব্দটির অর্থ প্রতিবন্ধক বা বিরুদ্ধ, যা ‘বিরাগী’ শব্দের অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
✗ গ) রাগহীন: ‘রাগহীন’ শব্দটির অর্থ ক্রোধহীন, যা ‘বিরাগী’ শব্দের বৈরাগ্য বা অনাসক্তির অর্থের সাথে মিলে না।
✗ ঘ) বিশেষভাবে রুষ্ট: ‘রুষ্ট’ শব্দটির অর্থ ক্রুদ্ধ বা রাগান্বিত, যা ‘বিরাগী’ শব্দের বিপরীত অর্থ বহন করে।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি অভিধান, সংস্কৃত অভিধান।
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন কবিতা ও গল্প।
— কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম।