ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
– দশ আনন যার – দশানন।
[এখানে ‘দশ’ বা ‘আনন’ (অর্থাৎ মুখ) পদের অর্থ বোঝানো হয়নি। লঙ্কার রাজা রাবণের দশটি মাথা থাকায় তার নাম দশানন, এখানে মূলত ‘দশ আনন যার’ বলতে লঙ্কার রাজা রাবণকে বোঝানো হয়েছে।]
এরূপকিছু উদাহরণ হলো:
• জনের মুখ হতে শ্রুত যা – জনশ্রুতি।
• দশহজ পরিমাণ যার – দশগজি।
• ধর্মে বুদ্ধি যার – ধর্মবুদ্ধি।
• নীল কণ্ঠ যার – নীলকণ্ঠ।
• চার পদ আছে যার – চতুষ্পদী।
অন্যদিকে,
• ব্যাসবাক্য অনুসারে ‘অনমনীয়’ শব্দটি নঞ্ বহুব্রীহি ও নঞ্ তৎপুরুষ উভয় সমাসই হয়।
যেমন:
– নয় নমনীয় যা – অনমনীয় (নঞ্ বহুব্রীহি সমাস)।
– নয় নমনীয় – অনমনীয় (নঞ্ তৎপুরুষ) সমাস।
• খাস যে মহল – খাসমহল; কর্মধারয় সমাস।
• তপের নিমিত্ত বন – তপোবন; এটি চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
• ব্যাসবাক্য বিবেচনায় বহুব্রীহি সমাসবদ্ধ পদ হচ্ছে ‘জনশ্রুতি’।
সুতরাং সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর অপশন ‘ক’ জনশ্রুতি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।