ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) টাংস্টেন
বিদ্যুৎ শক্তিকে আলোক শক্তিতে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাল্বের অভ্যন্তরীণ অংশ হলো ফিলামেন্ট। এটি এমন একটি উপাদান যা উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত হয়ে আলো বিকিরণ করে। ফিলামেন্টের উপাদান নির্বাচনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়, যেমন উচ্চ গলনাঙ্ক, কম বাষ্পীভবন হার, উচ্চ বিদ্যুৎ পরিবাহিতা এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়া।
**টাংস্টেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— টাংস্টেন (W) একটি রাসায়নিক মৌল যার পারমাণবিক সংখ্যা ৭৪ এবং এটি পর্যায় সারণির ষষ্ঠ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত একটি ধাতু।
— টাংস্টেনের গলনাঙ্ক প্রায় **৩,৪২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস**, যা সমস্ত ধাতুর মধ্যে সর্বোচ্চ। এই উচ্চ গলনাঙ্ক বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে উচ্চ তাপমাত্রায় পৌঁছালেও গলে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
— টাংস্টেনের উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীলতা এবং কম বাষ্পীভবন হার এটিকে আদর্শ ফিলামেন্ট উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
— টাংস্টেনের বৈদ্যুতিক রোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি, যা বিদ্যুৎ প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং আলোক উৎপাদনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
— টাংস্টেন ফিলামেন্ট সাধারণত একটি প্যাঁচানো বা কুণ্ডলী আকারে তৈরি করা হয়, যা আলোক উৎপাদনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) সংকর ধাতু: সংকর ধাতু হলো দুই বা ততোধিক ধাতুর মিশ্রণ, যা সাধারণত উচ্চ শক্তি ও স্থায়িত্বের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট হিসেবে সংকর ধাতু ব্যবহৃত হয় না, কারণ এর গলনাঙ্ক টাংস্টেনের তুলনায় কম এবং উচ্চ তাপমাত্রায় স্থিতিশীলতা কম।
✗ খ) সীসা: সীসা একটি নরম ধাতু যার গলনাঙ্ক মাত্র **৩২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস**। এটি উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না এবং বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য উপযুক্ত নয়। এছাড়া সীসা বিষাক্ত হওয়ায় এর ব্যবহার বিপজ্জনক।
✗ ঘ) তামা: তামা একটি চমৎকার বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতু, তবে এর গলনাঙ্ক মাত্র **১,০৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস**। উচ্চ তাপমাত্রায় তামা দ্রুত গলে যায় এবং বাষ্পীভূত হয়ে ফিলামেন্টের আয়ু কমিয়ে দেয়। তাই তামা ফিলামেন্ট হিসেবে উপযুক্ত নয়।
উৎস:
— *Physics for Scientists and Engineers* by Raymond A. Serway and John W. Jewett (Chapter on Electric Current and Circuits)
— *NCERT Physics Textbook for Class 12* (Chapter on Current Electricity)
— *BCS Preliminary General Knowledge Guide* by Jahangir Alam (Chapter on Science and Technology)