ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ব্রজবুলি
বৈষ্ণব পদাবলী বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যা বিশেষত চৈতন্যদেবের সময়কাল থেকে বিকাশ লাভ করে। এই পদাবলীর ভাষা ছিল এক বিশেষ ধরনের মিশ্র ভাষা, যা বাংলা ও মৈথিলী ভাষার সংমিশ্রণে গঠিত হয়েছিল।
**ব্রজবুলি ভাষা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ব্রজবুলি হলো একটি মিশ্র ভাষা, যা মূলত বাংলা ও মৈথিলী ভাষার সংমিশ্রণে গঠিত। এটি বৈষ্ণব পদাবলীর প্রধান ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হত।
— এই ভাষাটি মূলত বৃন্দাবনের ব্রজ অঞ্চলের ভাষা থেকে উদ্ভূত, যার ফলে এর নাম হয়েছে "ব্রজবুলি" (ব্রজ + বুলি = ব্রজ অঞ্চলের ভাষা)।
— ব্রজবুলি ভাষায় রচিত পদাবলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সঙ্গীতময়তা এবং ভক্তিমূলক ভাব। এই পদাবলীগুলো মূলত শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রেমের কাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত হত।
— বৈষ্ণব পদাবলীর প্রধান কবিগণ হলেন বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস প্রমুখ। এদের মধ্যে বিদ্যাপতি ছিলেন মৈথিলী ভাষার কবি, কিন্তু তার পদাবলীগুলো ব্রজবুলি ভাষায় রচিত হয়েছিল।
— ব্রজবুলি ভাষা বাংলা সাহিত্যে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে, কারণ এটি বাংলা ভাষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) সন্ধ্যাভাষা: সন্ধ্যাভাষা হলো বাংলা ভাষার প্রাচীন রূপ, যা খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে প্রচলিত ছিল। এটি বৈষ্ণব পদাবলীর ভাষা নয়।
✗ খ) অধিভাষা: অধিভাষা হলো বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন রূপ, যা খ্রিস্টীয় পঞ্চম থেকে সপ্তম শতাব্দীর মধ্যে প্রচলিত ছিল। এটি বৈষ্ণব পদাবলীর ভাষা নয়।
✗ ঘ) সংস্কৃত ভাষা: সংস্কৃত হলো প্রাচীন ভারতীয় ভাষা, যা বৈষ্ণব পদাবলীর ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। বৈষ্ণব পদাবলী মূলত বাংলা ও মৈথিলী ভাষার সংমিশ্রণে গঠিত ব্রজবুলি ভাষায় রচিত হত।
উৎস:
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনিসুজ্জামান
— বৈষ্ণব পদাবলী: উৎস ও বৈশিষ্ট্য, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
— বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস, ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়