ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) পূর্ববঙ্গ ও আসাম
বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশ সম্পর্কিত প্রেক্ষাপট:
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনামলে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তৎকালীন বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করে দুটি নতুন প্রদেশ গঠন করা হয়। এই বিভক্তির উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু হয়, যা পরবর্তীতে বঙ্গভঙ্গ রদে (১৯১১) ভূমিকা রাখে।
**বঙ্গভঙ্গ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **বঙ্গভঙ্গের সময়কাল**: ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয় এবং ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর বাতিল করা হয়।
— **বিভক্ত প্রদেশ দুটি**:
১. **পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ**: রাজধানী ছিল ঢাকা। এই প্রদেশে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২. **পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ**: রাজধানী ছিল কলকাতা। এই প্রদেশে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
— **আয়তন ও জনসংখ্যা**:
- পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের আয়তন ছিল প্রায় ১,০৮,০০০ বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ।
- পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের আয়তন ছিল প্রায় ১,৪১,৫৮০ বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ।
— **প্রশাসনিক পরিবর্তন**:
- পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার।
- পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন অ্যান্থনি ম্যাকডোনেল।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ (ক) পূর্ববঙ্গ: এটি শুধুমাত্র পূর্ববঙ্গকে নির্দেশ করে, কিন্তু আসামকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
✗ (খ) পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা: ত্রিপুরা তৎকালীন বাংলা প্রদেশের অংশ ছিল না, এবং পশ্চিমবঙ্গ আলাদা প্রদেশ হিসেবে গঠিত হয়নি।
✗ (গ) পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ: আসামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা বঙ্গভঙ্গের ফলে গঠিত প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
উৎস:
— বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত "বাংলাদেশের ইতিহাস" (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক)।
— "ভারতের ইতিহাস" (ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার)।
— বিসিএস পরীক্ষার পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নপত্র ও ব্যাখ্যা সম্বলিত গাইডবুক।