ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ৩৫ জন
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। এই মামলাটি ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করে। মামলাটির মূল অভিযোগ ছিল ভারতের সঙ্গে যোগসাজশ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করা।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় মোট আসামীর সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— এই মামলায় প্রধান আসামী ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান (বঙ্গবন্ধু), যিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন।
— মোট আসামীর সংখ্যা ছিল **৩৫ জন**, যাদের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা ছিলেন।
— আসামীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানী, লেফটেন্যান্ট এম. এম. রুহুল কুদ্দুস, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম. খাদেমুল বাশার প্রমুখ।
— মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে, এবং এর বিচার শুরু হয়েছিল একই বছরের জুন মাসে।
— এই মামলার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ব্যাপক প্রতিবাদ জানায়, যার ফলে পরবর্তীতে আইয়ুব খানের সরকারের পতন ঘটে এবং গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ (ক) ৩৪ জন: এই সংখ্যাটি সঠিক নয়, কারণ সরকারি দলিল ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী আসামীর সংখ্যা ছিল ৩৫ জন।
✗ (গ) ৩৬ জন: এই সংখ্যাটিও সঠিক নয়, কারণ সরকারি নথিপত্রে আসামীর সংখ্যা ৩৫ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
✗ (ঘ) ৩২ জন: এই সংখ্যাটি সম্পূর্ণ ভুল, কারণ সরকারি দলিল অনুযায়ী আসামীর সংখ্যা ছিল ৩৫ জন।
উৎস:
— বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত "আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা: দলিলপত্র"।
— ড. হারুন-অর-রশিদ রচিত "বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ" গ্রন্থ।
— বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত "মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস" গ্রন্থ।