ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) কুন্দনন্দিনী
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কিত ভূমিকা:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক। তাঁর উপন্যাসগুলো বাংলা সাহিত্যে এক নতুন যুগের সূচনা করে। ‘বিষবৃক্ষ’ তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য উপন্যাস, যা সমাজের ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক অসঙ্গতিগুলোকে তুলে ধরে।
**বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— জন্ম: ২৬ জুন ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে।
— মৃত্যু: ৮ এপ্রিল ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায়।
— উপাধি: বাংলা সাহিত্যের জনক।
— উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
— উপন্যাস: দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫), কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬), মৃণালিনী (১৮৬৯), বিষবৃক্ষ (১৮৭৩), চন্দ্রশেখর (১৮৭৭), রাজসিংহ (১৮৮২), দেবী চৌধুরাণী (১৮৮৪), সীতারাম (১৮৮৭)।
— প্রবন্ধগ্রন্থ: কমলাকান্তের দপ্তর (১৮৭৫), লোকরহস্য (১৮৭৪)।
— সম্পাদনা: বাংলা মাসিক পত্রিকা ‘বঙ্গদর্শন’ (১৮৭২) প্রতিষ্ঠা করেন।
— সাহিত্যিক অবদান: বাংলা উপন্যাসের জনক হিসেবে পরিচিত। তাঁর উপন্যাসগুলোতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে।
**‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— প্রকাশকাল: ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে।
— উপন্যাসের বিষয়বস্তু: ধর্মীয় গোঁড়ামি, সামাজিক অসঙ্গতি, নারীর প্রতি অবিচার ও সমাজের কুসংস্কার নিয়ে লেখা।
— প্রধান চরিত্র:
— নগেন্দ্রনাথ: উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্র, যিনি ধর্মীয় গোঁড়ামির শিকার হন।
— কুন্দনন্দিনী: উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র, যিনি সমাজের ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।
— কেন্দ্রীয় বিষয়: ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে সমাজে সৃষ্ট অশান্তি ও নারীর প্রতি অবিচার।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) শ্যামাসুন্দরী: এই চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
✗ গ) বিমলা: এই চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র।
✗ ঘ) রোহিনী: এই চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র।
উৎস:
— বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস (১৮৭৩)।
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, সুকুমার সেন।
— বিসিএস সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নব্যাংক, বিভিন্ন সংস্করণ।