ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) জাপান
জাপানের সংবিধানকে ‘শান্তি সংবিধান’ বলা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান তার সামরিক শক্তি ত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই সংবিধানের ৯ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ পরিহারের নীতি উল্লেখ রয়েছে, যার কারণে একে ‘শান্তি সংবিধান’ নামে অভিহিত করা হয়।
**জাপানের সংবিধান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **৯ অনুচ্ছেদ**: জাপানের সংবিধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ৯ অনুচ্ছেদ, যেখানে বলা হয়েছে যে জাপান যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে না এবং সামরিক শক্তি ব্যবহার বা হুমকি দিতে পারবে না। এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত।
— **দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব**: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জাপানের নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। এই সংবিধানটি ১৯৪৭ সালের ৩ মে কার্যকর হয়।
— **শান্তিবাদী নীতি**: জাপান তার সামরিক শক্তি সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে শান্তিবাদী হিসেবে ঘোষণা করে।
— **আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি**: জাপানের এই শান্তিবাদী নীতির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাকে শান্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে। একে প্রায়শই ‘শান্তি সংবিধান’ নামে অভিহিত করা হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) পেরু: পেরুর সংবিধান কোনোভাবেই ‘শান্তি সংবিধান’ নামে পরিচিত নয়। পেরুর সংবিধান অন্যান্য সাধারণ সংবিধানের মতোই।
✗ গ) কোস্টারিকা: কোস্টারিকা একটি শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও তার সংবিধানকে ‘শান্তি সংবিধান’ বলা হয় না। কোস্টারিকা তার সামরিক বাহিনী বিলুপ্ত করেছে, তবে সংবিধানটি এভাবে পরিচিত নয়।
✗ ঘ) সুইজারল্যান্ড: সুইজারল্যান্ড একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে পরিচিত, তবে তার সংবিধানকে ‘শান্তি সংবিধান’ বলা হয় না। সুইজারল্যান্ডের সামরিক শক্তি রয়েছে, যদিও তা নিরপেক্ষতার নীতির অধীনে পরিচালিত হয়।
**উৎস:**
— জাপান সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (https://www.japan.go.jp/)
— জাপানের সংবিধান, ১৯৪৭ (Article 9)
— ‘The Constitution of Japan’ (ইংরেজি সংস্করণ, জাপান সরকার প্রকাশিত)
— ‘History of Japan’ by George Sansom (বই)