ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্য
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগে মুসলমানি প্রভাবিত বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলা হয় দোভাষী বাংলা সাহিত্য। এই সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ধারা হলো পুঁথি সাহিত্য, যা সাধারণত ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে রচিত হতো। "বটতলার পুঁথি" বলতে মূলত এই দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্যকেই বোঝানো হয়।
**পুঁথি সাহিত্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— পুঁথি সাহিত্য হলো বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা, যা মধ্যযুগে (প্রায় ১৫শ থেকে ১৮শ শতাব্দী পর্যন্ত) বিকাশ লাভ করে।
— এই সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ভাষা, যা আরবি, ফারসি ও বাংলা ভাষার মিশ্রণে গঠিত। একে দোভাষী বাংলা বলা হয়।
— পুঁথি সাহিত্যের প্রধান বিষয়বস্তু ছিল ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন কাহিনী, বিশেষ করে মহররমের ঘটনা, নবী-রাসূলদের জীবনী, ইসলামি ধর্মীয় উপাখ্যান ইত্যাদি।
— এই সাহিত্যের রচয়িতারা সাধারণত মুসলমান কবিগণ ছিলেন, যারা আরবি ও ফারসি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন।
— পুঁথি সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবির মধ্যে রয়েছেন সৈয়দ হামিদ, ফকির গরীবুল্লাহ, শেখ ফয়জুল্লাহ প্রমুখ।
— পুঁথি সাহিত্য সাধারণত মুখে মুখে প্রচারিত হতো এবং পরবর্তীতে তা লিপিবদ্ধ করা হতো। এজন্য এসব পুঁথির অনেকগুলোই হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।
— "বটতলার পুঁথি" বলতে মূলত কলকাতার বটতলা অঞ্চলে প্রকাশিত ও প্রচারিত পুঁথি সাহিত্যকে বোঝানো হয়। এই অঞ্চলটি ছিল পুঁথি প্রকাশনার অন্যতম কেন্দ্র।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) মধ্যযুগীয় কাব্যের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি: এই বিকল্পটি সঠিক নয়, কারণ বটতলার পুঁথি শুধু হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি নয়, বরং মুদ্রিত ও প্রচারিত সাহিত্যও ছিল। এছাড়া এটি দোভাষী বাংলায় রচিত হওয়ায় এটি সাধারণ মধ্যযুগীয় কাব্য থেকে আলাদা।
✗ খ) বটতলা নামক স্থানে রচিত কাব্য: এই বিকল্পটি আংশিক সত্য হলেও সম্পূর্ণ নয়। বটতলা অঞ্চল ছিল পুঁথি প্রকাশনার কেন্দ্র, কিন্তু পুঁথি সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও ভাষা ছিল দোভাষী বাংলা, যা এই বিকল্পে উল্লেখ করা হয়নি।
✗ ঘ) অবিমিশ্র দেশজ বাংলায় রচিত লোকসাহিত্য: এই বিকল্পটি সম্পূর্ণ ভুল, কারণ বটতলার পুঁথি সাহিত্য অবিমিশ্র দেশজ বাংলায় নয়, বরং আরবি, ফারসি ও বাংলার মিশ্রণে গঠিত দোভাষী বাংলায় রচিত হতো।
উৎস:
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. আশ