ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ধ্বন্যাত্মক শব্দ
বাংলা ভাষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৃতি ও বিভিন্ন ঘটনার শব্দ অনুকরণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, বৃষ্টির শব্দকে ‘টাপুর টুপুর’ দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যা প্রকৃত শব্দের অনুকরণ।
‘টাপুর টুপুর’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— ‘টাপুর টুপুর’ হলো ধ্বন্যাত্মক শব্দের একটি উদাহরণ, যা বৃষ্টির শব্দকে অনুকরণ করে গঠিত হয়েছে।
— ধ্বন্যাত্মক শব্দ হলো সেই সব শব্দ, যেগুলো কোনো শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণ করে গঠিত হয়। যেমন: ঘড়ির টিকটিক, বৃষ্টির টাপুর টুপুর।
— বাংলা ভাষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে ভাষাকে আরও জীবন্ত ও বর্ণনাময় করে তোলা হয়।
— ‘টাপুর টুপুর’ শব্দটি দ্বিরুক্ত শব্দ হলেও এটি মূলত ধ্বন্যাত্মক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি বৃষ্টির শব্দের অনুকরণ।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) অবস্থাবাচক শব্দ: অবস্থাবাচক শব্দ হলো সেই সব শব্দ, যেগুলো কোনো অবস্থা বা গুণ প্রকাশ করে। যেমন: ভালো, মন্দ। ‘টাপুর টুপুর’ কোনো অবস্থা প্রকাশ করে না, তাই এটি অবস্থাবাচক শব্দ নয়।
✗ খ) বাক্যালঙ্কার শব্দ: বাক্যালঙ্কার শব্দ হলো সেই সব শব্দ, যেগুলো বাক্যকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলে। যেমন: উপমা, উৎপ্রেক্ষা। ‘টাপুর টুপুর’ কোনো বাক্যালঙ্কার নয়, এটি ধ্বনির অনুকরণ।
✗ ঘ) দ্বিরুক্ত শব্দ: দ্বিরুক্ত শব্দ হলো সেই সব শব্দ, যেগুলো একই শব্দ বা শব্দাংশ দুইবার ব্যবহৃত হয়ে নতুন অর্থ প্রকাশ করে। যেমন: ভালো ভালো, টুপ টাপ। ‘টাপুর টুপুর’ দ্বিরুক্ত শব্দ হলেও এটি মূলত ধ্বন্যাত্মক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান
— বাংলা ব্যাকরণ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
— মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড