ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) রাঙ্গামাটি জেলায়
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী হলো চাকমা সম্প্রদায়। তাদের প্রধান বসবাসস্থল হিসেবে পরিচিত তিনটি পার্বত্য জেলার মধ্যে জনসংখ্যার বিচারে রাঙ্গামাটি জেলা শীর্ষস্থানে রয়েছে।
**চাকমা জনগোষ্ঠী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **জনসংখ্যা ও বসবাসস্থল**: বাংলাদেশের আদিবাসীদের মধ্যে চাকমারা সর্ববৃহৎ জনগোষ্ঠী। তাদের প্রধান আবাসস্থল পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। তবে জনসংখ্যার দিক থেকে রাঙ্গামাটি জেলায় তাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
— **ভাষা ও ধর্ম**: চাকমারা নিজস্ব ভাষা চাকমা ভাষায় কথা বলে, যা তিব্বতী-বর্মণ ভাষা পরিবারের অন্তর্গত। তাদের প্রধান ধর্ম বৌদ্ধ ধর্ম, তবে কিছু চাকমা হিন্দু ধর্মাবলম্বীও রয়েছে।
— **সংস্কৃতি ও জীবিকা**: চাকমারা ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপন করে। তাদের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ, বিশেষত ধান চাষ। এছাড়া তাঁত বুনন, হস্তশিল্প ও বিভিন্ন ধরনের উৎসব পালন তাদের সংস্কৃতির অংশ।
— **রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান**: চাকমারা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (PCJSS) নামক রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে আসছে। তাদের সামাজিক সংগঠন হিসেবে রয়েছে চাকমা রাজা বা চাকমা সার্কেল চিফের নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থা।
— **জনসংখ্যার পরিসংখ্যান**: বাংলাদেশ সরকারের আদমশুমারি অনুযায়ী, চাকমাদের অধিকাংশই রাঙ্গামাটি জেলায় বসবাস করে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমাদের জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার, যার অধিকাংশই রাঙ্গামাটি জেলায়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) খাগড়াছড়ি জেলায়: খাগড়াছড়ি জেলায় চাকমাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও তা রাঙ্গামাটি জেলার তুলনায় কম। এ জেলায় চাকমাদের পাশাপাশি অন্যান্য আদিবাসী যেমন ত্রিপুরা, মারমা প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বেশি।
✗ গ) বান্দরবান জেলায়: বান্দরবান জেলায় চাকমাদের তুলনায় মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি। চাকমারা এ জেলায় সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাস করে।
✗ ঘ) সিলেট জেলায়: সিলেট জেলা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়। এ জেলায় চাকমাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। সিলেট অঞ্চলে প্রধানত সিলেটি মুসলমান ও অন্যান্য আদিবাসী যেমন মনিপুরি, খাসিয়া প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর বসবাস।
উৎস:
— বাংলাদেশ সরকারের আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১ (পরিসংখ্যান ব্যুরো)
— পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
— বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের প্রকাশিত প্রতিবেদন