ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণে
চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় কেন?
চাঁদ যখন দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থান করে, তখন তা আমাদের কাছে অনেক বড় দেখায়। এটি মূলত একটি দৃষ্টিভ্রম বা অপটিক্যাল ইলিউশন। তবে এর পেছনে প্রধান কারণ হলো বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণ। যখন চাঁদ দিগন্তের কাছাকাছি থাকে, তখন এর আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে। ফলে আলোর প্রতিসরণ ঘটে এবং চাঁদকে কিছুটা উঁচুতে অবস্থিত মনে হয়। এছাড়াও, আমাদের মস্তিষ্ক দিগন্তের কাছাকাছি থাকা বস্তুকে দূরের তুলনায় বড় হিসেবে মূল্যায়ন করে, যা দৃষ্টিভ্রমকে আরও প্রকট করে তোলে।
**চাঁদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— চাঁদ হলো পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ এবং সৌরজগতের পঞ্চম বৃহত্তম উপগ্রহ।
— চাঁদের ব্যাস প্রায় ৩,৪৭৪ কিলোমিটার, যা পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
— চাঁদের অভিকর্ষ বল পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ।
— চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ২৭.৩ দিন সময় নেয়, যা চান্দ্রমাস নামে পরিচিত।
— চাঁদের পৃষ্ঠে রয়েছে অসংখ্য গর্ত, পাহাড় ও সমভূমি। সবচেয়ে বড় গর্ত হলো দক্ষিণ মেরুর আইটকেন অববাহিকা, যার ব্যাস প্রায় ২,২৪০ কিলোমিটার।
— চাঁদের আলো মূলত সূর্যের আলোর প্রতিফলন। চাঁদ নিজে কোনো আলো উৎপন্ন করে না।
— চাঁদের দূরত্ব পৃথিবী থেকে গড়ে প্রায় ৩,৮৪,৪০০ কিলোমিটার।
— চাঁদের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা দিনের বেলায় প্রায় ১২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের বেলায় প্রায় -১৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়।
— চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় ৩.৮ সেন্টিমিটার করে দূরত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) আলোর বিচ্ছুরণে: আলোর বিচ্ছুরণ হলো বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর ভিন্ন ভিন্ন কোণে প্রতিসরণ। এটি চাঁদের আকার বৃদ্ধির কারণ নয়, বরং রং পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত।
✗ গ) অপাবর্তনে: অপাবর্তন হলো আলোর প্রতিফলনের একটি বিশেষ ঘটনা, যেখানে আলো একটি নির্দিষ্ট কোণে প্রতিফলিত হয়। এটি চাঁদের আকার বৃদ্ধির কারণ নয়।
✗ ঘ) দৃষ্টিভ্রমে: দৃষ্টিভ্রম হলো মস্তিষ্কের এমন একটি অবস্থা যেখানে বস্তুর প্রকৃত আকার বা অবস্থান সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়। যদিও চাঁদের আকার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দৃষ্টিভ্রম একটি ভূমিকা পালন করে, এটি একমাত্র কারণ নয়। প্রধান কারণ হলো বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণ।
**উৎস:**
— "Astronomy: The Evolving Universe" by Michael Zeilik (৯ম সংস্করণ)
— "The Cambridge Encyclopedia of Astronomy" by Simon Mitton
— বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভ