ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) শিলভদ্র
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ-এর ভারত ভ্রমণ ও বৌদ্ধ ধর্ম অধ্যয়নের প্রেক্ষাপট
হিউয়েন সাঙ ছিলেন চীনের বিখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষু, পণ্ডিত ও পরিব্রাজক। তিনি ৭ম শতাব্দীতে (৬০২-৬৬৪ খ্রিস্টাব্দ) চীন থেকে ভারত ভ্রমণ করেন। তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বৌদ্ধ ধর্মের মূল গ্রন্থ ও শিক্ষা সংগ্রহ করা। তাঁর ভ্রমণকালে তিনি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বৌদ্ধ বিহারে অবস্থান করেন এবং বহু বৌদ্ধ পণ্ডিতের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর লেখা 'গ্রেট ট্যাং রেকর্ডস অন দ্য ওয়েস্টার্ন রিজিওন্স' গ্রন্থটি প্রাচীন ভারত ও মধ্য এশিয়ার ইতিহাস ও ভূগোল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস হিসেবে বিবেচিত।
শিলভদ্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— শিলভদ্র ছিলেন নালন্দা মহাবিহারের প্রধান আচার্য বা উপাচার্য। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট বৌদ্ধ পণ্ডিত ও ধর্মগুরু।
— তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং তাঁর জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের জন্য সারা ভারতবর্ষে পরিচিত ছিলেন।
— হিউয়েন সাঙ তাঁর কাছে বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন সূত্র, তত্ত্ব ও দর্শন অধ্যয়ন করেন।
— শিলভদ্র ছিলেন হিউয়েন সাঙ-এর প্রধান ধর্মগুরু বা দীক্ষাগুরু, যাঁর কাছ থেকে তিনি বৌদ্ধ ধর্মের গভীর জ্ঞান অর্জন করেন।
— শিলভদ্রের অধীনে অধ্যয়নকালে হিউয়েন সাঙ নালন্দা মহাবিহারের পরিবেশ ও শিক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করেন।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) অতীশ দিপঙ্কর: অতীশ দিপঙ্কর ছিলেন একজন বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত ও ধর্মগুরু, যিনি পরবর্তীতে তিব্বতে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন হিউয়েন সাঙ-এর সমসাময়িক নয়, বরং তাঁর জন্ম হয়েছিল হিউয়েন সাঙ-এর মৃত্যুর প্রায় দুই শতাব্দী পরে।
✗ গ) মা হুয়ান: মা হুয়ান ছিলেন চীনের আরেকজন বিখ্যাত পরিব্রাজক, যিনি পরবর্তীতে ভারত ভ্রমণ করেন। তিনি ছিলেন হিউয়েন সাঙ-এর সমসাময়িক নয়, বরং তাঁর ভ্রমণের প্রায় এক শতাব্দী পরে ভারত ভ্রমণ করেন।
✗ ঘ) মেগাস্থিনিস: মেগাস্থিনিস ছিলেন গ্রিক পরিব্রাজক ও লেখক, যিনি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজসভায় দূত হিসেবে আসেন। তিনি ছিলেন হিউয়েন সাঙ-এর প্রায় এক হাজার বছর পূর্বে ভারত ভ্রমণ করেন এবং তাঁর লেখা 'ইন্ডিকা' গ্রন্থে ভারতের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি কোনোভাবেই হিউয়েন সাঙ-এর দীক্ষাগুরু হতে পারেন না।
উৎস:
— 'গ্রেট ট্যাং রেকর্ডস অন দ্য ওয়েস্টার্ন রিজিওন্স' — হিউয়েন সাঙ
— 'হিউয়েন সাঙ' — প্রবন্ধ সংকলন, বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ
— 'প্রাচীন ভারতের ইতিহাস' — রমেশচন্দ্র মজুমদার