ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) হংকং-এর অর্থনীতিকে সচল রাখা
চীনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ‘দ্বৈত অর্থনীতি’। এই ব্যবস্থা মূলত চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকং-এর অর্থনৈতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষা এবং উন্নয়নের জন্য গৃহীত হয়েছে।
**‘দ্বৈত অর্থনীতি’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— চীন সরকার ১৯৯৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে হংকং অধিগ্রহণের পর ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ (One Country, Two Systems) নীতির অধীনে হংকংকে বিশেষ অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করে।
— এই নীতির আওতায় হংকং নিজস্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, মুদ্রা (হংকং ডলার), আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো বজায় রাখতে পারে, যা মূল চীনের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে আলাদা।
— ‘দ্বৈত অর্থনীতি’ ধারণাটি মূলত হংকং-এর পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে সংযুক্ত রাখতে সহায়তা করে।
— চীন সরকার হংকং-এর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা চালু রাখে, যা দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
— এই ব্যবস্থা চীনের মূল ভূখণ্ডের সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির সাথে হংকং-এর পুঁজিবাদী অর্থনীতির সমন্বয় সাধন করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ (ক) বাজার অর্থনীতিকে গ্রহণযোগ্য করা: চীন সরকার ইতিমধ্যেই বাজার অর্থনীতির উপাদানগুলো গ্রহণ করেছে, তবে ‘দ্বৈত অর্থনীতি’ ধারণাটি মূলত হংকং-এর অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, পুরো চীনের জন্য নয়।
✗ (খ) মতাদর্শগত ধারণার সমন্বয় সাধন: যদিও মতাদর্শগত সমন্বয় ঘটেছে, তবে প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হংকং-এর অর্থনৈতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা, পুরোপুরি মতাদর্শিক সমন্বয় নয়।
✗ (ঘ) তাইওয়ানকে চীনের অন্তর্ভুক্তকরণ: তাইওয়ানকে চীনের অন্তর্ভুক্তকরণের জন্য ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতি প্রস্তাব করা হলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি। হংকং-এর ক্ষেত্রেই এই নীতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে।
উৎস:
— ‘One Country, Two Systems’ – চীনের জাতীয় আইন ও নীতিমালা
— Hong Kong Special Administrative Region (HKSAR) Basic Law
— বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) প্রকাশিত প্রতিবেদন