ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ১৭৯৩ খৃঃ
<বিষয় সম্পর্কিত ভূমিকা>
ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতবর্ষের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। এটি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার ভূমি ব্যবস্থাকে চিরস্থায়ীভাবে ঠিক করে দেয় এবং পরবর্তীকালে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে এর প্রভাব বিস্তৃত হয়।
**চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **প্রবর্তনের সাল ও প্রেক্ষাপট**: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হয় ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে। লর্ড কর্নওয়ালিসের সময়কালে (১৭৮৬-১৭৯৩) এই ব্যবস্থা চালু করা হয়।
— **উদ্দেশ্য**: ব্রিটিশ সরকারের রাজস্ব আদায় স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি করার লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। এছাড়া জমিদারদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তাদের ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অনুগত রাখাও ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য।
— **ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য**:
— জমিদারদের ভূমির স্থায়ী মালিকানা প্রদান করা হয়।
— জমিদারদের কাছ থেকে নির্ধারিত রাজস্ব আদায় করা হতো, যা পরবর্তীতে আর পরিবর্তন করা হতো না।
— জমিদাররা নিজেদের অধীনস্থ প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করতেন এবং সরকারকে রাজস্ব প্রদান করতেন।
— **প্রভাব ও পরিণতি**:
— জমিদার শ্রেণির উদ্ভব ঘটে, যারা ব্রিটিশ শাসনের প্রধান স্তম্ভ হয়ে ওঠে।
— প্রজাদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে, কারণ জমিদাররা অতিরিক্ত খাজনা আদায় করতেন।
— ব্রিটিশ সরকারের রাজস্ব আয় স্থিতিশীল হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে কৃষকদের দুর্দশা বৃদ্ধি পায়।
— **অঞ্চলভিত্তিক প্রবর্তন**: প্রাথমিকভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায় প্রবর্তিত হলেও পরবর্তীতে উত্তর প্রদেশ, দিল্লি ও অন্যান্য অঞ্চলে এর প্রভাব বিস্তৃত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ১৭৫৭ খৃঃ: এই সালটি পলাশীর যুদ্ধের সাল। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় প্রভাব বিস্তার শুরু করে এই সালেই, কিন্তু চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হয়নি।
✗ খ) ১৭৭০ খৃঃ: এই সালটি বাংলায় দুর্ভিক্ষের বছর হিসেবে পরিচিত। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ গ) ১৮৫৭ খৃঃ: এই সালটি ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বা সিপাহী বিদ্রোহের বছর। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎস:
— *ভারতবর্ষের ইতিহাস* – রমেশচন্দ্র মজুমদার
— *বাংলাদেশের ইতিহাস* – সালাহউদ্দীন আহমেদ
— *চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত* – সরকারি দলিলপত্র, ব্রিটিশ আমলের রাজস্ব নথি