ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) কোনটি আচরণীয়, আর কোনটি নয়
'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়' বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি মূলত একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় গ্রন্থ হলেও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই গ্রন্থটির নামের অর্থ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন যেকোনো সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীর জন্য।
**‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— এটি খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত বলে ধারণা করা হয়।
— গ্রন্থটির রচয়িতা হিসেবে কাহ্নপাদ, লুইপাদ, ভুসুকুপাদ প্রমুখ সহ প্রায় ২৪ জন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যের নাম উল্লেখ রয়েছে।
— চর্যাপদ নামেও পরিচিত এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।
— গ্রন্থটির প্রধান বিষয়বস্তু ছিল বৌদ্ধ ধর্মের তান্ত্রিক সাধনার বিভিন্ন দিক এবং সাধকদের জীবনাচরণ।
— ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ শব্দটির অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
— ‘চর্য’ অর্থ আচরণ বা অভ্যাস।
— ‘আচর্য’ অর্থ যা পালনীয় বা অনুসরণীয়।
— ‘বিনিশ্চয়’ অর্থ নিশ্চিত করা বা নির্ধারণ করা।
— সুতরাং, ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ অর্থ দাঁড়ায় “কোনটি আচরণীয় আর কোনটি নয়”।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) কোনটি চর্যাগান, আর কোনটি নয়: এটি ভুল কারণ ‘চর্যাগান’ শব্দটির উল্লেখ গ্রন্থটির নামের মধ্যে নেই। গ্রন্থটির মূল বিষয়বস্তু গান নয়, বরং সাধনার অভ্যাস ও আচরণ।
✗ গ) কোনটি চরাচরের, আর কোনটি নয়: এটি ভুল কারণ ‘চরাচর’ শব্দটির অর্থ মহাবিশ্ব বা জগৎ, যা গ্রন্থটির নামের সাথে সম্পর্কিত নয়।
✗ ঘ) কোনটি আচার্যের, আর কোনটি নয়: এটি ভুল কারণ ‘আচার্য’ শব্দটির অর্থ গুরু বা শিক্ষক, যা গ্রন্থটির নামের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। গ্রন্থটির নামের মূল অংশ ‘চর্য’ ও ‘আচর্য’।
উৎস:
— চর্যাপদ: আদি বাংলা সাহিত্যের ধারা (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. দেবেশচন্দ্র ভট্টাচার্য)
— বাংলাদেশের সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক (সাধারণ জ্ঞান বিভাগ)