ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) মাত্রাবৃত্ত
চর্যাপদ প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। এটি বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন হিসেবে পরিচিত এবং খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। চর্যাপদের ছন্দ নিয়ে আলোচনা করার সময় এর গঠন ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা জরুরি।
**চর্যাপদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন, যা খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছিল।
— এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের রচনা হিসেবে পরিচিত। এতে মোট ৫০টি পদ রয়েছে, যার মধ্যে ৪৬টি পদ পাওয়া গেছে।
— চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বাংলা, যা তৎকালীন সময়ের বাংলা ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
— চর্যাপদের বিষয়বস্তু প্রধানত ধর্মীয় ও দার্শনিক ধারণা নিয়ে আলোচনা করে, বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্মের সহজিয়া মতবাদ।
**চর্যাপদের ছন্দ সম্পর্কে বিস্তারিত:**
— চর্যাপদের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত। মাত্রাবৃত্ত ছন্দে প্রতিটি পদের মাত্রা সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে, কিন্তু অক্ষরের সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে না।
— চর্যাপদের পদগুলো সাধারণত ৮-১২ মাত্রার মধ্যে রচিত হতো। উদাহরণস্বরূপ, "আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলি" পদটির মাত্রা সংখ্যা ৮।
— মাত্রাবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এটি উচ্চারণের উপর নির্ভরশীল, তাই উচ্চারণের সময় মাত্রা গণনা করা হয়।
— চর্যাপদের ছন্দ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের একটি আদি রূপ।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) অক্ষরবৃত্ত: অক্ষরবৃত্ত ছন্দে প্রতিটি পদের অক্ষরের সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে, কিন্তু মাত্রা সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে না। চর্যাপদের ক্ষেত্রে অক্ষরের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয় বলে এটি অক্ষরবৃত্ত নয়।
✗ গ) স্বরবৃত্ত: স্বরবৃত্ত ছন্দে প্রতিটি পদের স্বরের সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে। চর্যাপদের ক্ষেত্রে স্বরের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয় বলে এটি স্বরবৃত্ত নয়।
✗ ঘ) অমিত্রাক্ষর ছন্দ: অমিত্রাক্ষর ছন্দ হলো একটি দীর্ঘ ছন্দ যেখানে অন্ত্যমিল থাকে না এবং প্রতিটি পদের অক্ষরের সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে না। চর্যাপদের ক্ষেত্রে অন্ত্যমিল রয়েছে বলে এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দ নয়।
উৎস:
— চর্যাপদ: আদি বাংলা সাহিত্যের ধারা (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (ড. আহমদ শরীফ)
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. দেবেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়)