ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ১৯০৭
চর্যাপদ সম্পর্কিত পরীক্ষা-প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে পরিচিত চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় (BCS, Bank, Primary, NTRCA) চর্যাপদ সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়শই আসে। এর আবিষ্কার ও প্রকাশকাল সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রত্যাশিত।
চর্যাপদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্যগ্রন্থ, যা খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত বলে ধারণা করা হয়।
— এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচনা, যারা ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি সাহিত্য চর্চা করতেন।
— চর্যাপদের পাণ্ডুলিপিটি নেপালের রাজদরবার থেকে আবিষ্কৃত হয়েছিল।
— চর্যাপদের ভাষা বাংলা হলেও এর মধ্যে প্রচুর সংস্কৃত ও প্রাকৃত শব্দের ব্যবহার দেখা যায়।
— চর্যাপদের পদগুলো মূলত গানের মতো সুর করে গাওয়া হতো, যা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হতো।
— চর্যাপদের আবিষ্কারের পর থেকেই বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনত্ব নিয়ে গবেষণা শুরু হয়।
— চর্যাপদের পদগুলো প্রথমে সংস্কৃত অক্ষরে লেখা ছিল, পরবর্তীতে বাংলা লিপিতে রূপান্তরিত করা হয়।
— চর্যাপদের পদসংখ্যা ছিল ৫১টি, তবে বর্তমানে এর মধ্যে মাত্র ৪৭টি পদ পাওয়া গেছে।
— চর্যাপদের বিষয়বস্তু ছিল মূলত ধর্মীয় অনুশাসন, প্রেম, প্রকৃতি ও মানবজীবনের বিভিন্ন দিক।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ১৮০০: চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয়নি, বরং এ সময়ে বাংলা সাহিত্যের অন্যান্য নিদর্শন নিয়ে গবেষণা চলছিল।
✗ খ) ১৮৫৭: এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বছর হলেও চর্যাপদ আবিষ্কারের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ ঘ) ১৯০৯: এই বছর চর্যাপদের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু আবিষ্কার হয়নি।
উৎস:
— চর্যাপদ: বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য
— BCS Preliminary General Knowledge, Ahsan Habib