ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) বৌদ্ধধর্ম
চর্যাপদ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা:
চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। এটি মূলত একটি কাব্যগ্রন্থ যেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় ও দার্শনিক মতামতের প্রকাশ ঘটেছে। চর্যাপদের রচনাকাল আনুমানিক খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ধরা হয়।
**চর্যাপদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষায় রচিত প্রাচীনতম পদসংকলন। এটি মূলত বৌদ্ধ সহজযান সম্প্রদায়ের সাধন সংগীত।
— চর্যাপদের পদগুলো মূলত সংস্কৃত ভাষায় রচিত হলেও এতে বাংলা ভাষার প্রাথমিক রূপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
— চর্যাপদের পদগুলোতে বৌদ্ধধর্মের মহাযান ও সহজযান মতের প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে বৌদ্ধধর্মের তান্ত্রিক ধারা ও সাধনপদ্ধতির বর্ণনা রয়েছে।
— চর্যাপদের পদগুলোতে বৌদ্ধ সাধকদের জীবনযাপন, সাধনা পদ্ধতি, এবং ধর্মীয় অনুশাসনের বর্ণনা পাওয়া যায়।
— চর্যাপদের পদগুলোতে ব্যবহৃত ভাষা প্রাচীন বাংলা ভাষার প্রাথমিক রূপ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাংলা ভাষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
— চর্যাপদের পদগুলোতে প্রাকৃত ভাষার প্রভাবও লক্ষ্য করা যায়, যা তৎকালীন সময়ের ভাষাগত বৈচিত্র্যের পরিচয় বহন করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) খ্রিস্টধর্ম: চর্যাপদে খ্রিস্টধর্মের কোনো উল্লেখ বা প্রভাব নেই। খ্রিস্টধর্মের প্রসার বাংলায় অনেক পরে ঘটে।
✗ খ) প্যাগনিজম: প্যাগানিজম বলতে সাধারণত প্রাকৃতিক ধর্ম বা বহুঈশ্বরবাদকে বোঝায়, যা চর্যাপদে অনুপস্থিত।
✗ গ) জৈনধর্ম: জৈনধর্মের প্রভাবও চর্যাপদে দেখা যায় না। জৈনধর্ম মূলত ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করেছিল।
উৎস:
— চর্যাপদ: বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, সম্পাদনা: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনিসুজ্জামান।
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. দেবেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।