সঠিক উত্তর: (খ) নেপাল
চর্যাপদ সম্পর্কে পরীক্ষা-প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে চর্যাপদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রাচীন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাথমিক রূপ প্রকাশ করে। চর্যাপদের আবিষ্কার ও সংরক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ থাকলেও এর প্রাপ্তিস্থান নিয়ে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে।
চর্যাপদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন, যা খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছিল।
— এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের ধর্মীয় গান বা পদাবলি হিসেবে পরিচিত।
— চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা ছিল ৫১টি, যার মধ্যে ৪৭টি পদ পাওয়া গেছে।
— চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বাংলা ভাষার প্রাথমিক রূপ, যা তৎকালীন বাংলা অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।
চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত:
— চর্যাপদ প্রথম আবিষ্কৃত হয় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর কাছে অবস্থিত রাজগ্রন্থাগারে (বর্তমান নাম: নেপাল জাতীয় মহাফেজখানা)।
— ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
— চর্যাপদের পাণ্ডুলিপিটি ছিল তালপাতায় লেখা এবং এটি সংস্কৃত ভাষায় লেখা একটি গ্রন্থের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত ছিল।
— পরবর্তীতে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের পাণ্ডুলিপিটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন এবং সেখান থেকে তা প্রকাশিত হয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) বাংলাদেশ: চর্যাপদ বাংলাদেশে পাওয়া যায়নি। এটি নেপাল থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে।
✗ গ) উড়িষ্যা: উড়িষ্যা ভারতের একটি রাজ্য হলেও চর্যাপদ সেখানে পাওয়া যায়নি।
✗ ঘ) ভুটান: ভুটানেও চর্যাপদের কোনো প্রাপ্তিস্থান নেই। এটি নেপালেই আবিষ্কৃত হয়েছে।
উৎস:
— হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সম্পাদিত "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" (১৯১৬)।
— ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত "চর্যাপদ" (১৯৬৭)।
— বাংলা একাডেমি প্রকাশিত "বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস" (প্রথম খণ্ড)।